বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং খাতে বঞ্চনার শিকার মুসলিমরা *** সরকারি কর্মচারীদের পাঁচ বছরের বেশি থাকা ঠিক না: প্রধান উপদেষ্টা *** আড়াই মাস চেষ্টা করেও আল জাজিরা তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার নিতে পারেনি *** মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে *** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমান বিধ্বস্তের আগে ‘রহস্যজনক নীরবতা’ *** ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সংকেত বুঝতে পারছে না সরকার *** ‘আমি কিন্তু আমলা, আপনি সুবিচার করেননি’ *** প্রধান উপদেষ্টার কাছে অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি *** ভারত-ইউরোপের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি *** ‘গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন হুমকি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়’

নির্বাচনে জাতীয় পার্টি, দুশ্চিন্তায় জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০১:১৬ অপরাহ্ন, ৮ই ডিসেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে নানা ধরনের সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। আমি আগে থেকেই বলেছি যে দলটি এখন খুব আলোচনায় নেই, নিজেরাও খুব বেশি আলোচনায় আসছে না, নীরবে অবস্থান করছে সেই জাতীয় পার্টিই আগামী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তিনি বলেন, তবে আমি জাতীয় পার্টিকে খুব ভালো কোনো রাজনৈতিক দল মনে করি না। আমরা যখন শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করি—যে সরকার গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে সেই সমালোচনার একটি অংশ জাতীয় পার্টিরও প্রাপ্য বলে আমি বিশ্বাস করি।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে মাসুদ কামাল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি যদি আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণ ‘ব্ল্যাংক চেক’ না দিত, যদি নিঃশর্তভাবে সহযোগিতা ও সমর্থন না করত, তাহলে আওয়ামী লীগের পক্ষে এতটা স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করা এত সহজ হতো না। কিন্তু জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতা নিজেদের স্বার্থে আওয়ামী লীগকে এভাবে নিরন্তর সমর্থন দিয়ে গেছেন, এটিই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে এ জায়গায় নিয়ে এসেছে।

তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালের যে একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই নির্বাচনের সময় জাতীয় পার্টির অবস্থান ছিল বেশ অদ্ভুত ও অস্পষ্ট। আমরা দেখেছি, দলের প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তখন তার মনোনয়নপত্রগুলো প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি প্রত্যাহার করলেও সরকার বলল—না, সব মনোনয়ন প্রত্যাহার হয়নি। বরং তাকে একটি আসনে নির্বাচিত দেখানো হলো, আবার অন্য একটি আসনে পরাজিত দেখানো হলো।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় পার্টিকে ঘিরে প্রথম বড় ঝামেলাটা শুরু হয় গণ অধিকার পরিষদের অবস্থানকে কেন্দ্র করে। তারা দাবি তোলে—জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন থেকে বাদ দিতে হবে। এই দাবির সঙ্গে যুক্ত হয় এনসিপি এবং অবধারিতভাবে জামায়াতে ইসলামীও। তারা চায় জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া হোক। কারণ আসলে রাজনৈতিক; এটি নির্বাচনী সমীকরণেরই অংশ।

মাসুদ কামাল বলেন, বাংলাদেশের বাস্তব রাজনীতিতে প্রধান দুটি দল হলো, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। আর ‘তৃতীয় শক্তি’ হিসেবে ভারসাম্য রক্ষা করে জাতীয় পার্টি ও জামায়াত। ১৯৯১ সাল থেকে আমরা দেখছি এই দুটি দল যেদিকে থাকে, সেই দিকের পাল্লাই ভারী হয়ে যায়। এবার আওয়ামী লীগ নেই, তাহলে তাদের ভোটগুলো কোথায় যাবে—এটাই মূল প্রশ্ন।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার পতনের পর থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে টর্চার, চাঁদাবাজি, নিপীড়নের অভিযোগ এসেছে। ফলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির প্রতি বিরূপ। এমন পরিস্থিতিতে জামায়াত বহু জায়গায় আওয়ামী লীগপন্থী নির্যাতিত বা কোণঠাসা কর্মীদের সহায়তা করেছে। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। 

তিনি বলেন, এতে জামায়াত আশা করছিল, নৌকা না থাকলে এই ভোটগুলো তারা পাবে। কিন্তু ব্যালটে যদি লাঙ্গল থাকে, তাহলে আওয়ামী লীগের বিচ্ছিন্ন ভোটারেরা বিএনপি বা জামায়াতকে ভোট না দিয়ে লাঙ্গলে দিতে পারে। এই সম্ভাবনাই জামায়াতের জন্য বড় চিন্তার কারণ। তাই তারাও চাইছে—জাতীয় পার্টি নির্বাচন থেকে বাদ পড়ুক।

তিনি আরো বলেন, অন্যদিকে জাতীয় পার্টির নেতারা সাধারণত মুখে খুব বেশি কিছু বলেন না। টকশোতে কিছু নেতা যুক্তি দেন, যুক্তি দেখান, কিন্তু মাঠে ততোটা সক্রিয় নন। এখন প্রশ্ন হলো—যদি আওয়ামী লীগ শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা ভোট দেবে এবং জাতীয় পার্টিও অংশ নেয় তাহলে নির্বাচনের পুরো চিত্রই বদলে যেতে পারে। 

জে.এস/

মাসুদ কামাল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250