বুধবার, ৪ঠা মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুলাই হত্যাকাণ্ড: ওসি-এসপিদের তালিকা করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১০:২৩ অপরাহ্ন, ৪ঠা জানুয়ারী ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যেসব থানা এলাকায় ছাত্র–জনতা শহীদ হয়েছেন, সেসব থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) তালিকা করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এর পাশাপাশি জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তালিকাও হচ্ছে। এই তালিকা করার পর তাদের নাম ধরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে।

আজ রোববার (৪ঠা জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ এ কথা জানিয়েছেন।

রিফাত রশিদ বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে যেসব থানার অধীনে ছাত্র-জনতাকে শহীদ করা হয়েছে, সেসব থানার ওসি–এসপি থেকে শুরু করে তদূর্ধ্ব কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা তৈরি করছেন তারা। এই তালিকা ট্রাইব্যুনালে জমাপূর্বক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তাদের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের চরম দমন–পীড়নের মুখে পড়ে। রক্তাক্ত এক পথ পেরিয়ে তা অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তাতে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। এরই মধ্যে একটি মামলায় শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে।

সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি ও দুটি কর্মসূচি তুলে ধরেন রিফাত রশিদ।

প্রথম দাবি হচ্ছে, তাদের হবিগঞ্জের নেতা মাহদী হাসানকে শুধু জামিন নয়, নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে। 

তাদের দ্বিতীয় দাবি, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১লা জুলাই থেকে ৮ই আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি প্রদান করে আগামী ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।

তাদের তৃতীয় দাবি হলো, জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীসহ সামরিক, আধা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সব কর্মকর্তা, সৈনিক ও কর্মচারীদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করে তাদের সম্মাননা, স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা; কর্মক্ষেত্রে তাদের হয়রানি বন্ধে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করা; ২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্যাসিবাদের রোষানলে পড়ে সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল পদগুলোতে পদায়ন করা।

সংবাদ সম্মেলনে রিফাত রশিদ দুটি কর্মসূচি তুলে ধরার সময় ওসি–এসপিদের তালিকা করার কথা জানিয়ে বলেন, ‘কোনো প্রকার টালবাহানা নয়, এবার যেটা আমাদের হাদি ভাই বলে গিয়েছিলেন, কোনো টালবাহানা নয়, অ্যাকশন হবে, অ্যাকশন!’

রিফাত রশিদ বলেন, ‘আমাদের দুই নম্বর কর্মসূচি হলো ইমডেমনেটির যে অর্ডিন্যান্স, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিশ্চিত করতে আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে অবিলম্বে মতবিনিময় করে তাদের প্রেশার দিয়ে তা জারি করতে বাধ্য করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেই কাজ আজকে থেকে ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।’

সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার মাহদী হাসানের জামিন হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হলে রিফাত রশিদ বলেন, মাহাদীকে কিন্তু নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়নি, একটি মামলায় কেবল জামিন দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তাদের প্রথম দফা সম্পূর্ণভাবে পূরণ হয়নি। তাই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামসহ অন্য নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250