ছবি: সংগৃহীত
গাজায় নিজেদের নির্বিচার হামলায় প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে ইসরায়েল। অবশ্য এতে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় নিখোঁজ ফিলিস্তিনিদের ধরা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেছেন। পরদিন শুক্রবার (৩০শে জানুয়ারি) ইসরায়েলের প্রায় সব সংবাদমাধ্যম এ বিষয়ে প্রতিবেদন করেছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে আকাশ, স্থল ও জলপথে গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। শুরু থেকে হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করে আসছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সংখ্যার পাশাপাশি নিহত ব্যক্তির নাম, বয়স, জন্মতারিখ এবং ইসরায়েলের ইস্যু করা পরিচয়পত্রের নম্বরও প্রকাশ করেছে হামাস পরিচালিত মন্ত্রণালয়টি। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
জাতিসংঘসহ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যকে মোটাদাগে সঠিক বলে মনে করে; কিন্তু ইসরায়েল সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনী সব সময় বলে আসছে, হতাহতের এ সংখ্যা ‘সঠিক নয়’। এসব হামাসের ‘অপপ্রচার’। ইসরায়েলের উদারপন্থী পত্রিকা হারেৎজ ছাড়া প্রায় সব সংবাদমাধ্যম নেতানিয়াহু সরকারের সুরে কথা বলেছে।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে আল-জাজিরা জানায়, গাজা নগরী, খান ইউনিসসহ গাজার বিভিন্ন স্থানে গতকাল শনিবার (৩১শে জানুয়ারি) ভোর থেকে ইসরায়েলের হামলায় ৬ শিশুসহ অন্তত ৩১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত বছরের ১০ই অক্টোবর যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়াল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ নিয়ে ইসরায়েলের দুই বছরের বেশি সময়ের আগ্রাসনে গাজায় অন্তত ৭১ হাজার ৭৬৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৮৩ জন। তা ছাড়া হাজার হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ এখনো ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর ইসরায়েলে হামাস ও গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় নিহত হয়েছিলেন অন্তত ১ হাজার ১৩৯ জন। আর প্রায় আড়াই শ জনকে বন্দী করে গাজায় নিয়ে আসা হয়েছিল।
নিহতের সংখ্যা নিয়ে হঠাৎ করে অবস্থান পরিবর্তনের ফলে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে নিজেদের দীর্ঘদিনের দাবি বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। জাতিসংঘের একটি কমিশন, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও গবেষকেরা গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে উল্লেখ করেছে।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন