ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত কড়াইলে, কড়াইলবাসীর আয়োজনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মোনাজাত করার আগ মুহূর্তে অনুষ্ঠান মঞ্চে এক ভিন্ন দৃশ্য দেখা গেছে। সাধারণত দোয়া অনুষ্ঠানে মোনাজাত পরিচালনা করা আলেমরা একপাশে বসেন। খালেদা জিয়ার দোয়া অনুষ্ঠানে ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ ইব্রাহিম বিন আলি মোনাজাত পরিচালনা করেন মঞ্চে সবার সামনে বসে। পেছনের দিকে স্ত্রীসহ তারেক রহমান ও দলের নেতারা বসে মোনাজাতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে দোয়া মাহফিলের প্রাক্কালে গুলশান-২-এর ইউনাইটেড হাসপাতাল মসজিদের ইমাম মুহাম্মাদ ইবরাহিম বিন আলি এগিয়ে আসেন সামনে। সেখানে তার বসার জন্য একটি চেয়ার প্রয়োজন ছিল। সেসময় তারেক রহমান নিজের চেয়ারটি এগিয়ে দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভিডিও শেয়ার করে নেটিজেনরা তারেক রহমানের প্রশংসায় মেতেছেন।
একজন ভিডিও প্রসঙ্গে লিখেছেন, মাশাআল্লাহ! আলেমদের প্রতি তারেক রহমানের এই বিনয় ও শ্রদ্ধা সত্যিই প্রশংসনীয়। মহান আল্লাহ তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং ইসলামের খেদমত করার তৌফিক দান করুন।
আরেকজন লিখেছেন, হুজুরদের সম্মানে মহান আল্লাহ পাক অনেক খুশি হন। ইনশাআল্লাহ আগমীতে তারেক রহমান দেশের জনগণের কল্যাণে ভালো কিছু করবেন।
অনুষ্ঠানের ভিডিওতে দেখা গেছে, সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে যখন খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত শুরু হবে তখন হঠাৎ তারেক রহমান মঞ্চের ডান দিকে থাকা ইমাম সাহেবের দিকে তাকান। এক পর্যায়ে নেতাদের তাকে সামনের দিকে নিয়ে আসার জন্য বলেন।
নিজে উঠে পাশের ফাঁকা চেয়ার তুলে মঞ্চের ঠিক সামনে রাখেন তারেক রহমান। পরে মোনাজাত পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মাওলানা ইব্রাহিমের সঙ্গে সালাম বিনিময় শেষে চেয়ারে বসার অনুরোধ করেন। সেখানে বসেই দোয়া করা হয়।
তারেক রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। তিনি কড়াইলবাসীদের উদ্দেশে বলেন, আমরা রাজনীতি করি আপনাদের জন্য। এর আগেও বিএনপি যতবার জনগণকে জবান দিয়েছে, আমরা চেষ্টা করেছি সেই জবান রক্ষা করার জন্য। আল্লাহ যদি আমাকে সুযোগ দেন তবে আপনাদের জন্য আমি কিছু কাজ করতে চাই।
তারেক রহমান প্রতিশ্রুতিতে বলেন, কড়াইলবাসীদের আবাসন সংকট সমাধানে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। বস্তিবাসীদের মধ্যে যারা এখানে অনেক আগে থেকেই বসবাস করে আসছেন সবার নামে রেজিস্ট্রেশন করে তাদেরকে ছোট ছোট ফ্ল্যাট উপহার দেওয়া হবে। বস্তিবাসীর পড়ালেখার জন্য স্কুল এবং মাঠের ব্যবস্থা করা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসার সমস্যার সমাধানে এই এলাকায় হাসপাতাল, ক্লিনিক নির্মাণ করা হবে যেন তারা হাতের কাছেই জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারেন।
খবরটি শেয়ার করুন