বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** আড়াই মাস চেষ্টা করেও আল জাজিরা তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার নিতে পারেনি *** শীতে পিঠ ব্যথা করে—টাইম ম্যাগাজিনকে তারেক রহমান *** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমান বিধ্বস্তের আগে ‘রহস্যজনক নীরবতা’ *** ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সংকেত বুঝতে পারছে না সরকার *** ‘আমি কিন্তু আমলা, আপনি সুবিচার করেননি’ *** প্রধান উপদেষ্টার কাছে অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি *** ভারত-ইউরোপের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি *** ‘গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন হুমকি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়’ *** নতুন মার্কিন নীতি বাংলাদেশের উপর যে প্রভাব ফেলবে *** ‘কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপ পুরুষদের সমকামী করে তুলতে পারে’

‘অসংখ্য রাজনৈতিক দলের তুলনায় আওয়ামী লীগের রেকর্ড অসামান্য’

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১০:৪৪ অপরাহ্ন, ২১শে জানুয়ারী ২০২৬

#

ফাইল ছবি

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম মনে করেন, আওয়ামী লীগের গর্বিত হওয়ার মতো অসংখ্য কারণ রয়েছে। তাদের রয়েছে ঈর্ষণীয় সব অর্জন। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের অসংখ্য রাজনৈতিক দলের তুলনায় আওয়ামী লীগের রেকর্ড অসামান্য বলে বিবেচনা করা যায়। দলটির তিনটি ধাপ রয়েছে—প্রতিষ্ঠাকালীন আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার হাল ধরার পরের আওয়ামী লীগ।

তিনি বলেন, ৭৬ বছরের মধ্যে গত ৪৪ বছর ধরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। তিনি কেবল আওয়ামী লীগকে সাফল্যের সঙ্গে পুনর্গঠিত ও পুনরুজ্জীবীতই করেননি, প্রায় ২১ বছর বিরোধী দলে থাকার পর নির্বাচনে জিতে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতাসীনও করেছেন। টানা শাসনামলে শেখ হাসিনা দেশের অর্থনীতিতে অসামান্য উন্নয়ন অর্জন করেছেন। অবকাঠামো নির্মাণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে (যদিও ক্যাপাসিটি চার্জের বিষয়টি বড় আকারে প্রশ্নবিদ্ধ) তার অসাধারণ অর্জন প্রশংসার দাবিদার। উন্নয়নের ধারায় বাংলাদেশের প্রশংসনীয় অগ্রগতি অবশ্যই রাষ্ট্র পরিচালনায় শেখ হাসিনার যোগ্য ও অবিচল নেতৃত্বের ফল।

মাহফুজ আনাম উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বেই প্রকৃত অর্থে জনগণের কাছে পৌঁছাতে ও জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয় এবং বাঙালির আশা-ভরসার দলে পরিণত হয়। সেটা ছিল দারুণ একটি সময়—যখন প্রকৃত অর্থেই লাখো সাধারণ মানুষকে উজ্জীবিত করে তাদের অন্তরের অন্তঃস্থলে পৌঁছে যায় দলটি এবং একইসঙ্গে তাদের শতভাগ ভালোবাসা, সমর্থন ও আস্থা অর্জন করে।

তার মতে, ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ছিল দেশের সব ধরনের গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের রচয়িতা ও মূল চালিকাশক্তি। দলটি পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের সব ধরনের অধিকার আদায়ের দাবিকে বলিষ্ঠ রূপ দিতে নিরলস কাজ করে গেছে। পাকিস্তান আমলে রাজনৈতিক দল হিসেবে একমাত্র আওয়ামী লীগই ছিল আমাদের সব গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষার ধারক ও বাহক।

ডেইলি স্টারের ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত এক উপসম্পাদকীয়তে মাহফুজ আনাম এসব কথা বলেন। তার লেখাটি ২০২৪ সালের ২৯শে জুন প্রকাশিত হয় 'ফ্রম পিপল টু অ্যা বাবল' শিরোনামে। এর পর মাত্র দেড় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগের সরকার জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়। দেড় মাসের কম সময়ের আগে আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু  ও শেখ হাসিনা সম্পর্কে মাহফুজ আনামের যে মূল্যায়ন ছিল, তা রাতারাতি পাল্টে যায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর।

মাহফুজ আনামের ওই লেখার লিংক ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে ফেসবুকে শেয়ার করছেন ওই লিংক। নানা শ্রেণি-পেশার নেটিজেনদের মধ্যে লেখাটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট। গণ-অভ্যুত্থান দমনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গণহত্যা ও আওয়ামী লীগের শাসনের সময়ে গুমের অভিযোগগুলোর বিচারের উদ্যোগ নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। 

মাহফুজ আনাম উপসম্পাদকীয়তে লেখেন, যাত্রা শুরুর পর আওয়ামী লীগের ৭৫ বছরের ইতিহাসকে সংক্ষেপে বর্ণনা করতে গেলে বলতে হবে, দলটির এই যাত্রায় তিনটি ধাপ রয়েছে—প্রতিষ্ঠাকালীন আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার হাল ধরার পরের আওয়ামী লীগ।

তার মতে, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জয়লাভ ছিল সেই সময়ে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড়, একচেটিয়া এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। অনেক দিক দিয়েই এটা ছিল আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের এক পূর্বাভাস। এই বিজয় আওয়ামী লীগকে পূর্ব পাকিস্তানের জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলার আইনি, নৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার দেয়।

ওই উপসম্পাদকীয়তে মাহফুজ আনাম লেখেন, সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যা আমাদের জন্য সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা এবং এটি থেকে আমরা আজও ঘুরে দাঁড়াতে পারিনি। সেসময় দেশে না থাকায় এই হত্যাকাণ্ড থেকে প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে—আমাদের বর্তমান (এখন সাবেক) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা।

তিনি বলেন, ৭৬ বছরের মধ্যে গত ৪৩ (বর্তমানে ৪৪ বছর) বছর ধরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। নৃশংসভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বড় আকারে অস্তিত্ব সংকটে পড়ে আওয়ামী লীগ। ১৯৮১ সালে নির্বাসন থেকে দেশে ফেরার পর দলের হাল ধরেন তিনি। এরপর থেকে অদ্যাবধি দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন এবং আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করেছেন। তিনি কেবল দলটিকে সাফল্যের সঙ্গে পুনর্গঠিত ও পুনরুজ্জীবীতই করেননি, প্রায় ২১ বছর বিরোধী দলে থাকার পর নির্বাচনে জিতে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতাসীনও করেছেন।

ওই কলামে মাহফুজ আনাম ‘জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে শুরু হওয়া আওয়ামী লীগের একক কণ্ঠের দলে পরিণত হওয়া, দলটি যত ক্ষমতায় থেকেছে, ততই এর কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত হওয়া, নেতৃত্ব কাঠামোর প্রতিটি স্তরে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার উত্থানের’ সমালোচনাও করেন। দলটির তৃণমূল পর্যায়েও একই ধারা দেখা যাওয়া, দলের কোনো পর্যায়ে কোনো ধরনের জবাবদিহি না থাকা, নেতাকর্মীদের দলের প্রতি দায়িত্বহীনতার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।

শেখ হাসিনা মাহফুজ আনাম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250