বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** আড়াই মাস চেষ্টা করেও আল জাজিরা তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার নিতে পারেনি *** শীতে পিঠ ব্যথা করে—টাইম ম্যাগাজিনকে তারেক রহমান *** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমান বিধ্বস্তের আগে ‘রহস্যজনক নীরবতা’ *** ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সংকেত বুঝতে পারছে না সরকার *** ‘আমি কিন্তু আমলা, আপনি সুবিচার করেননি’ *** প্রধান উপদেষ্টার কাছে অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি *** ভারত-ইউরোপের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি *** ‘গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন হুমকি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়’ *** নতুন মার্কিন নীতি বাংলাদেশের উপর যে প্রভাব ফেলবে *** ‘কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপ পুরুষদের সমকামী করে তুলতে পারে’

আবারও কি সাজানো নির্বাচন?

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৯:৪২ অপরাহ্ন, ১৯শে জানুয়ারী ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনকালে সংঘাত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়; কিন্তু এবার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি আরও বেশি নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ণ। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর ভেঙে পড়া পুলিশি ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা কার্যক্রম এখনো আগের অবস্থায় ফিরে আসেনি, জেল থেকে পালিয়ে যাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থীদের মধ্যে অনেককে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি, খোয়া যাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের বড় অংশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের অনেকে অনলাইনে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোও নির্বাচন নিয়ে নানা নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও টকশো উপস্থাপক জিল্লুর রহমান বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশজুড়ে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। ২২শে জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ২১ তারিখের মধ্যেই প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ততই বাড়ছে সংশয়—নির্বাচন আদৌ শেষ পর্যন্ত হবে তো? হলে কিসের বিনিময়ে হবে? কত রক্তের বিনিময়ে, কত জীবনের বিনিময়ে? আর নির্বাচন শেষ পর্যন্ত কেমন হবে, এটি কি ২০১৪, ২০১৮ কিংবা ২০২৪ সালের মতো বিতর্কিত ও নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হবে কিনা, এমন প্রশ্নও উঠছে।

সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিওতে জিল্লুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, রাজনীতির মাঠে একটি বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের অনুপস্থিতি এবারের নির্বাচনী সমীকরণকে আরো অনিশ্চিত করে তুলেছে। তাদের বিপুল ভোটব্যাংক শেষ পর্যন্ত কোথায় যাবে, কাকে ভোট দেবেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। কারো মতে, ভোটারেরা নিরুৎসাহিত হয়ে ভোটকেন্দ্রেই যাবেন না; আবার অনেকে মনে করেন, এই ভোট একটি ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির দিকে প্রবাহিত হতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণমাধ্যমে জোট-মিত্র নিয়ে যত আলোচনা হয়, সাধারণ মানুষের কাছে দল ও প্রতীকই শেষ কথা।

তিনি বলেন, ফলে বিএনপি মানে বিএনপি, আওয়ামী লীগ মানে আওয়ামী লীগ—এই বাস্তবতার বাইরে অন্যদের জোট-মিত্র নিয়ে হিসাব খুব বেশি কার্যকর হয় না। কিন্তু সেই জায়গায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে জামায়াতে ইসলামী কী করবে—এটাই। একই সঙ্গে নির্বাচনের আগে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি কখনোই স্থিতিশীল ছিল না বরং অভ্যুত্থানের পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন কোথাও না কোথাও হত্যাকাণ্ড ঘটছে, যাদের অনেকেই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলে এসব সহিংসতা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে—এটা নিয়েও জনমনে উৎকণ্ঠা রয়েছে। ক্ষমতা পরিবর্তন কিংবা নির্বাচনকালীন উত্তেজনা তৈরি হলে দুর্বৃত্ত ও রাজনৈতিক ক্যাডারেরা আরো সক্রিয় হতে পারেন, যা পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক উত্থান নিয়েও আলোচনা বাড়ছে। অভ্যুত্থানের পর থেকে দলটির সাংগঠনিক তৎপরতা, মাঠপর্যায়ের প্রভাব এবং রাজনৈতিক সমীকরণে উপস্থিতি বেড়েছে। জামায়াত খুবই স্মার্ট প্লেয়ার এবং তারা পরিস্থিতিকে নানাভাবে ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা দেখেছি—ছাত্রশিবির কিভাবে ছাত্রলীগের ভেতরে ঢুকে একটার পর একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়ী হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, তাদের কোনো লজ্জাবোধও নেই—তারা প্রকাশ্যেই বলছে, আমরা ছাত্রলীগ করেছি, এখন শিবির।

জিল্লুর রহমান বলেন, বাস্তবে এনসিপির ভোট-সমর্থন কতটা, তা পরিষ্কার নয়—তবে রাজনৈতিক পরিসরে ও সরকারিভাবে তাদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেখা যাচ্ছে। এনসিপির একাধিক নেতার বক্তব্যে এমন ধারণাও দেওয়া হয়েছে যে তারা বিপুলসংখ্যক আসনে জয় পেতে পারেন। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচন শেষ পর্যন্ত হলেও সেটি সরকারের অধীনে ‘ইঞ্জিনিয়ার্ড’ বা সাজানো নির্বাচন হতে পারে, যেখানে জামায়াত ও তাদের মিত্ররা সুবিধা পেতে পারে। তবে কেউ কেউ খানিকটা স্বস্তি পেয়েছেন যখন ইসলামী আন্দোলন এই ধারার বাইরে অবস্থান নিয়েছে। তারপরও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতের ভূমিকা নিয়েই সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

জিল্লুর রহমান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250