বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং খাতে বঞ্চনার শিকার মুসলিমরা *** সরকারি কর্মচারীদের পাঁচ বছরের বেশি থাকা ঠিক না: প্রধান উপদেষ্টা *** আড়াই মাস চেষ্টা করেও আল জাজিরা তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার নিতে পারেনি *** মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে *** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমান বিধ্বস্তের আগে ‘রহস্যজনক নীরবতা’ *** ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সংকেত বুঝতে পারছে না সরকার *** ‘আমি কিন্তু আমলা, আপনি সুবিচার করেননি’ *** প্রধান উপদেষ্টার কাছে অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি *** ভারত-ইউরোপের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি *** ‘গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন হুমকি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়’

জরিপ, না প্রভাব বিস্তার?

উপ-সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ১০:৪৫ অপরাহ্ন, ৮ই ডিসেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

আবু সালেহ রনি

নির্বাচন নিয়ে জনমত জরিপ নতুন নয়—বাংলাদেশে অতীতেও হয়েছে, বিশ্বজুড়েও হয়। কিন্তু বাংলাদেশে জরিপ নিয়ে প্রশ্ন সবসময়ই থাকে। কারণ, এ ধরনের জরিপ সাধারণত বিশেষ সময়, বিশেষ গোষ্ঠী এবং বিশেষ উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে করা হয়। এবারের জরিপ নিয়েও সেই সন্দেহ পুরোপুরি দূর হয়নি।

প্রথম আলো আজ যে জরিপের তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে—এই জরিপে ১ হাজার ৩৪২ জন অংশ নিয়েছেন ৫টি নগর ও ৫টি গ্রাম/আধা শহর অঞ্চল থেকে। অংশগ্রহণকারীদের বয়সসীমা ১৮ থেকে ৫৫ বছর। এখানে প্রথম প্রশ্ন—৫৫ বছরের ওপরে ভোটারের সংখ্যা কত? বাংলাদেশে এই বয়সী মানুষের সংখ্যা এবং তাদের ভোটের প্রভাব—দু’টিই বড়। তাহলে তাদের মতামত জরিপে অনুপস্থিত কেন?

আবার গ্রামের প্রান্তিক মানুষের মতামত কতটা এসেছে—সেটাও প্রশ্ন। তারাও তো ভোট দেবেন, যদি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হয়।

আরেকটি প্রশ্ন—অনলাইন অংশগ্রহণ ছিল না কেন? যদি উদ্বেগ থাকে বট বা দলীয় প্রভাব নিয়ে, তাহলে ডিজিটাল যাচাই (মোবাইল ফোন নম্বর, জিমেইল বা এনআইডি–সংযুক্ত পদ্ধতি) ব্যবহার করা যেত। তাহলে অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত, বৈচিত্র্যময় এবং তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য হতো।

জরিপে বলা হয়েছে—সংস্কারে জনগণের আস্থা সীমিত। পুলিশ, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও আর্থিক খাতে মানুষ অসন্তুষ্ট। এই অংশটি বাস্তবতার সঙ্গে অনেকটাই মেলে—এটা অস্বীকার করা কঠিন।

তবে জরিপে কিছু স্পর্শকাতর জাতীয় প্রশ্ন যথেষ্ট প্রতিফলিত হয়নি—অথাৎ সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, রাজনৈতিক সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি। এসব প্রশ্নে জনমত বাস্তবসন্মত নয়, আবার কিছু বিষয়ে মতামত আংশিক। 

পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট

জরিপটি করা হয়েছে ২১–২৮শে অক্টোবর। তখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত ছিল। কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরবেন কি না, অথবা নেতৃত্ব কোথায় দাঁড়াবে। এখনও পরিষ্কার নয় নির্বাচন হবে কি না, কিংবা আওয়ামী লীগসহ মূলধারার দলগুলো অংশ নেবে কি না।

এ পর্যায়ে জনমতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হওয়া উচিত ছিল—আওয়ালীগ সমর্থকেরা আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, এবং নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্য হবে? তাই অনেকেই মনে করছেন—এটি শুধুই তথ্য সংগ্রহের জরিপ নয়, বরং এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে জনআস্থা গড়ে তোলার অংশ।

ফেসবুকে কেউ বলছেন—এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে জনআস্থা দিতে একটি প্রচেষ্টা। আবার কেউ মনে করেন—এটি নির্বাচন পেছানোর পরিবেশ–সৃষ্টি। সময় বিবেচনায় এগুলো সম্পূর্ণ অমূলক বলা যায় না।

খালেদা জিয়া 

এখন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—আওয়ামী লীগবিহীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়া একটি কেন্দ্রীয় নির্ধারক। তার শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা রয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে নির্বাচনের সময় নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি হতে পারে—এমন ধারণা অনেক বিশ্লেষকের।

রমজান মাস, এসএসসি–এইচএসসি পরীক্ষা এবং বর্ষা মিলিয়ে নির্বাচনী টাইমলাইন ২০২৬–এর শেষভাগ পর্যন্ত সরতে পারে—এমন ধারণাও আছে। এই প্রেক্ষাপটে জরিপের ভাষা ও সময়—কাকে স্বস্তি দেবে আর কাকে দেবে না—তা অনুমান করা কঠিন নয়।

গণতন্ত্রে জরিপ উপকারী—এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু জরিপের সঙ্গে স্বচ্ছতা, পদ্ধতি, সময় এবং উদ্দেশ্য—এই চারটি বিষয় পরিষ্কার না থাকলে সেটি জনমতের প্রতিফলন নয়—বরং জনমত তৈরির উপকরণে পরিণত হয়।

বাংলাদেশের রাজনীতি নদীর স্রোতের মতো—জোয়ার–ভাটা আছে, তটভাঙা আছে, আবার স্থিরতা আসে। কিন্তু যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলেই কেবল নেতৃত্ব, রাষ্ট্রক্ষমতা এবং রাজনৈতিক বৈধতা নির্ধারণের অধিকার নাগরিকের হাতে থাকে।

দেখা যাক। সময়ই বলবে—এই জরিপ তথ্য, না বার্তা।

লেখক: সাংবাদিক

আবু সালেহ রনি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250