রবিবার, ৫ই এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্যাংকে না রেখে মানুষের হাতে টাকা রাখার পরিমাণ ৬ গুণ বেড়েছে

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০১:০৪ অপরাহ্ন, ৭ই জুন ২০২৩

#

সংগৃহীত

একদিকে খেলাপি ঋণের হার বৃদ্ধি, অন্যদিকে গ্রাহকদের টাকা তুলে নেওয়ার প্রবণতা ব্যাংক খাতকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত অর্থবছরের জুলাই-মার্চের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে গ্রাহকের হাতে টাকা রাখার পরিমাণ প্রায় ছয়গুণ বেড়েছে। দেখা যাচ্ছে, গত অর্থবছরের ওই সময়ে গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে তুলে হাতে রেখেছিলেন ৩ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরের একই সময়ে যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ২২০ কোটি টাকায়।

এটা ঠিক, বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে মানুষের আয় কমে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেবা ও পণ্যমূল্য মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে ব্যয় মিটিয়ে গ্রাহকের হাতে বাড়তি অর্থ থাকছে না। তাই সঞ্চয়ও করতে পারছেন না। অন্যদিকে সংসারের বাড়তি খরচ মেটাতে অনেকেই ব্যাংকে জমানো টাকা তুলতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া আর্থিক খাতে ধারাবাহিক ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা গ্রাহকের মনে আমানত খোয়ানোর আশঙ্কা তৈরি করছে।

আরো পড়ুন: বয়স্কদের ২০০০ টাকা কর থেকে অব্যাহতির অনুরোধ কাজী নাবিলের

এছাড়া মানুষ ব্যাংকে সঞ্চয় করে সুদ পেত। বর্তমানে মূল্যস্ফীতির বিবেচনায় তা এখন অনেক কম। বলা যায়, ব্যাংকে ‘প্রকৃত সুদহার ঋণাত্মক’ হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই সুদ না পেলে মানুষ অন্য কোথাও অর্থ খরচ করবে।

তবে ব্যাংক খাতে সৃষ্ট সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে। তারপরও অনেক গ্রাহকের মনে ‘আস্থার ঘাটতি’ রয়েই গেছে। ফলে যে হারে মানুষ ব্যাংক থেকে টাকা তুলছেন, তা উদ্বেগের বিষয়। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, অর্থনৈতিক মন্দা বা যে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তায় গ্রাহকরা ভরসা হিসাবে টাকা ব্যাংক থেকে তুলে রাখেন। বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও রয়েছে।

এ কারণে মানুষ টাকা হাতে রাখছেন বেশি, যা অর্থনীতির জন্য মোটেও ভালো নয়। এছাড়াও সংশ্লিষ্টরা আরও একটি উদ্বেগজনক তথ্য দিচ্ছেন। তাদের মতে, ব্যাংক থেকে টাকা তোলা ও আমানত কমার নেপথ্যে রয়েছে দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বিদেশে টাকা পাচার।

সব মিলে ব্যাংক খাতের তারল্যের যে সংকট দেখা দিয়েছে, তা থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ ব্যাংককে যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থ পাচার রোধ এবং ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে না পারলে পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এসি/আই. কে. জে/      


টাকা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250