মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের হস্তক্ষেপ দাবি আওয়ামী লীগের *** কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জন্য দোয়ার আয়োজন, অতঃপর... *** ১০ বছরে বাংলাদেশে শ্রমবাজারে প্রবেশ করা অর্ধেক তরুণই কাজ পায়নি: বিশ্বব্যাংক *** ‘জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি আপস করায় প্রধানমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ করা উচিত’ *** সরকারের প্রশাসক-ভিসি নিয়োগ ‘গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার পরিপন্থী’: জামায়াত *** ‘বিএনপিকে যারা মানবে না, তারা ফ্যামিলি কার্ড পাবে না’ *** পয়লা বৈশাখে টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী *** চীন কখনো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি: জামায়াত আমির *** প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরে মধ্যপ্রাচ্য অগ্রাধিকার পেতে পারে *** ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানি নিহত, দাবি ইসরায়েলের

বাড়ছে কাজুবাদামের ফলন, রপ্তানিতে ব্যাপক সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, ৯ই এপ্রিল ২০২৩

#

ছবি: সংগৃহীত

রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার কৃষক দয়া লেন্দু চাকমার পাহাড়ের এই জমিটা আগে পতিত ছিল। তেমন কোনো কিছু এখানে চাষাবাদ করতেন না। কিন্তু আশেপাশে অনেক কৃষকের কাজুবাদাম চাষে সাফল্য দেখে এখন সেই জমিতে তিনি কাজুবাদাম চাষ করেছেন। সম্প্রতি তার গাছে ফুল এসেছে। আর সেই ফুলের সঙ্গে তার স্বপ্নগুলো ডানা মিলছে বেশ দামি এই অপ্রচলিত কৃষিপণ্যটি ঘিরে।

শুধু দয়া লেন্দু চাকমাই নন, তার মতো অনেক কৃষকই এখন কাজুবাদাম চাষে এগিয়ে এসেছেন। তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছাড়িতে দিনদিন কাজুবাদামের ফলন বাড়ছে। সম্প্রতি বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি ঘুরে কাজুবাদাম চাষের এ দৃশ্য দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দেশে ও বিদেশে কাজুবাদামের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গত কয়েক বছরে দেশে বেশ কয়েকটি কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত কারখানা গড়ে উঠেছে। ফলে এ খাতে একদিকে যেমন নতুন উদ্যোক্তা গড়ে উঠেছে তেমনি নতুন নতুন কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী আবাদ এবং প্রক্রিয়াজাত কারখানা গড়ে তোলা গেলে রপ্তানি আয়ে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে কাজুবাদামের।

বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি জেলার অনেক পাহাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিনদিন এই অপ্রচলিত কৃষি পণ্যটির ফলন বাড়ছে। যেসব পাহাড়ি এলাকায় আগে চাষাবাদ হতো না, কিংবা অন্য ফসল হতো, সেখানেও এখন কাজুবাদাম চাষ হচ্ছে। সেইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চাহিদা। কাজুবাদামে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ, সেই সঙ্গে ঔষধি গুণাগুণ থাকায় বিশ্ববাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০১৯ সালে যেখানে ৯৬২ টন কাজুবাদাম উৎপাদন হয়, সেখানে ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৪২ টনে। অর্থাৎ তিন বছরের ব্যবধানে ফলন বেড়েছে ৮৮০ টন। যা শতাংশের হিসেবে ৯১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে মূলত বান্দরবানে সবচেয়ে বেশি কাজুবাদামের ফলন হয়। এরপর রয়েছে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি। কাজুবাদাম চাষের জন্য যে রকম মাটি, তাপমাত্রা ও বৃষ্টি দরকার, তার সম্পূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে এই পাহাড়ি এলাকায়। দেশের অন্যান্য পাহাড়ি এলাকার মাটিও কাজুবাদাম চাষের অনুকূলে। বর্তমানে বিশ্বে ৩৫ লাখ টন কাজুবাদাম উৎপাদন হয়। এরমধ্যে আফ্রিকার দেশগুলোতে প্রায় ১২ লাখ টন, ভারতে ৭ লাখ ৪৬ হাজার টন, ভিয়েতমানে ৪ লাখ টনের মতো কাজুবাদাম উৎপাদিত হয়। সেখানে বাংলাদেশে উৎপাদন মাত্র ২ হাজার টনের কাছাকাছি। 

রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার কৃষক দয়া লেন্দু চাকমা গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, অন্যান্য ফলের তুলনায় কাজুবাদামের দাম অনেক বেশি। তাই তিনি তার পতিত জমিতে কাজুবাদাম চাষ করেছেন। ভালো দাম পেলে আগামীতে আরো বেশি পরিমাণে জমিতে কাজুবাদাম চাষ করবেন বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, পাহাড়ে কাজুবাদাম ও কফির চাষের সম্প্রসারণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ২১১ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।  এই প্রকল্পের পরিচালক শহীদুল  ইসলাম জানান, দেশে কাজুবাদামের বাজার বাড়ছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় কাজুবাদাম চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০২০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় কাজুবাদাম চাষ হতো ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে,  এখন হচ্ছে ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে।

এ খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দেশে ও বিদেশে কাজুবাদামের চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে ২০১৬ সালে দেশে প্রথম প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করা হয়। গত কয়েক বছরে আরো কয়েকটি কাজুবাদাম প্রকিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের শুল্কায়ন মূল্য এখনো অনেক কম। ভিয়েতনামের মতো শূন্য শুল্কে কাঁচা কাজুবাদাম আমদানির সুযোগ দেওয়া উচিত।

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারে কাজুবাদামের বিশাল চাহিদা রয়েছে, দামও অনেক বেশি। সেজন্য, কাজুবাদামের চাষাবাদ ও প্রক্রিয়াজাত বাড়াতে সরকার কাজ করছে।  কাজুবাদামের চাষ জনপ্রিয় করতে কৃষক ও উদ্যোক্তাদেরকে বিনা মূল্যে উন্নত জাতের চারা, প্রযুক্তি ও পরামর্শসেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। দেশে চলতি বছর কৃষককে বিনা মূল্যে ২০ লাখ কাজুবাদামের চারা দেওয়া হবে বলে মন্ত্রী জানান।

এম/

Important Urgent

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের হস্তক্ষেপ দাবি আওয়ামী লীগের

🕒 প্রকাশ: ০৯:৩১ অপরাহ্ন, ১৭ই মার্চ ২০২৬

বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গরিব ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ

🕒 প্রকাশ: ০৮:০৮ অপরাহ্ন, ১৭ই মার্চ ২০২৬

কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জন্য দোয়ার আয়োজন, অতঃপর...

🕒 প্রকাশ: ০৬:৩২ অপরাহ্ন, ১৭ই মার্চ ২০২৬

১০ বছরে বাংলাদেশে শ্রমবাজারে প্রবেশ করা অর্ধেক তরুণই কাজ পায়নি: বিশ্বব্যাংক

🕒 প্রকাশ: ০৬:২২ অপরাহ্ন, ১৭ই মার্চ ২০২৬

‘জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি আপস করায় প্রধানমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ করা উচিত’

🕒 প্রকাশ: ০৬:০৮ অপরাহ্ন, ১৭ই মার্চ ২০২৬

Footer Up 970x250