বুধবার, ১৮ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ড. ইউনূসের চেয়ে বড় বাটপার বাংলাদেশের সরকারে কেউ আসেননি: আনিস আলমগীর *** সরকার গঠনের ২৮ দিনে প্রধানমন্ত্রীর ২৮ পদক্ষেপ ‘অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’ *** মুসলিম হও, নয়তো মৃত্যু—নাইজেরিয়ায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে জঙ্গিদের হুমকি *** ইরান যুদ্ধের মধ্যেই কিউবা দখলের হুমকি, ট্রাম্পের মতিগতি কী? *** ধর্ষণ প্রতিকারে বিশেষ পদক্ষেপ নেবে সরকার *** চা বিক্রেতা বৃদ্ধা ও নাতনির কাছে ঈদ উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী *** কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের হস্তক্ষেপ দাবি আওয়ামী লীগের *** কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জন্য দোয়ার আয়োজন, অতঃপর... *** ১০ বছরে বাংলাদেশে শ্রমবাজারে প্রবেশ করা অর্ধেক তরুণই কাজ পায়নি: বিশ্বব্যাংক *** ‘জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি আপস করায় প্রধানমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ করা উচিত’

ট্রেনে নাশকতা : দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, ২২শে ডিসেম্বর ২০২৩

#

রেলে একের পর এক নাশকতার ঘটনা ঘটছে। দুর্বৃত্তরা কখনো ট্রেনে আগুন দিচ্ছে, কখনো রেললাইন ও ব্রিজে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে, কখনো রেললাইনের ফিশপ্লেট খুলে ফেলছে কিংবা রেললাইনই কেটে ফেলছে। নাশকতাকারীরা চলন্ত মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি বগিতে আগুন লাগিয়ে মা ও শিশুসন্তানসহ নিরীহ চার যাত্রীর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। 

রেল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত রেলে কমপক্ষে ৪০টি নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। নাশকতা এড়াতে বাংলাদেশ রেলওয়ে আনসার সদস্য মোতায়েনসহ রেলপথ এস্কর্ট ও রেকি করার উদ্যোগও নিয়েছে; কিন্তু তারপরও কমছে না নাশকতা। রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজনসহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী রেলে নাশকতার জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়ী করেছেন। তবে দায়ী করাই যথেষ্ট নয়, যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে, তাদের গ্রেফতার করে প্রমাণ করতে হবে অভিযোগের সত্যতা। সেই সঙ্গে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে আগুনের ঘটনায় প্রশ্ন উঠতেই পারে, ট্রেন বিমানবন্দর স্টেশন থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত আসতে অন্তত ১৫ মিনিট সময় লেগেছে। এ সময় কারও কি মনে হয়নি, এটিকে থামানো প্রয়োজন? তিন কোচের দায়িত্বরত তিন অ্যাটেন্ডেন্ট কোথায় ছিলেন বা তাদের ভূমিকা কী ছিল? তাছাড়া ট্রেন দ্রুত থামানোর জন্য প্রতিটি কোচেই দরজার পাশে ভালব বা চাবি থাকে, যা রেলের স্টাফ বা অ্যাটেন্ডেন্টরা জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করে থাকেন। এদিন তারা সেটি ব্যবহার করেননি কেন? রাজধানীর ব্যস্ততম বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ট্রেনটি অন্তত ১২ কিলোমিটার চালিয়েছেন চালক (লোকোমাস্টার)। তাকে খবর দেওয়ার মতো একজনও কি ছিলেন না ওই ট্রেনে? ট্রেনে একজন পরিচালকসহ ফুড সাপ্লায়ার ও নিরাপত্তারক্ষীও সেখানে দায়িত্বরত ছিলেন। তারা কী করছিলেন? নিশ্চয়ই তদন্তে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।

মনে রাখা দরকার, এ ধরনের নাশকতা বা অন্তর্ঘাত কেবল রাষ্ট্রীয় সম্পদহানির বিষয় নয়, যাত্রী নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। যারাই এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকুক, তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। বস্তুত নাশকতা-সহিংসতা তথা সাধারণ মানুষকে টার্গেট করা গণতন্ত্রের চর্চা হতে পারে না। রাজনৈতিক সংকটে সাধারণ মানুষকে সহিংসতার শিকার হতে হবে কেন? মূলত অর্থনৈতিক প্রয়োজনেই মানুষকে ছোটাছুটি করতে হয়। এই ছোটাছুটি কখনো নিকট স্থানে, কখনো বা দূরপাল্লায়। অথচ সড়ক বা রেল কোনো যাত্রায়ই মানুষের জীবন এখন আর নিরাপদ নয়। এ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে। নিরীহ মানুষ যেন সহিংসতা ও নাশকতার শিকার না হন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এটা নিশ্চিত করতে হবে। যেভাবেই হোক, নাশকতাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে। সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যেন হয়রানি ও নাজেহালের শিকার না হন, সেদিকেও লক্ষ রাখা প্রয়োজন। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব সরকারের। এক্ষেত্রে কোনো ব্যর্থতাই মেনে নেওয়া যায় না। 

অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ, তারা যেন আন্দোলনের চরিত্র বদলান এবং যে কোনো ধরনের সহিংস কর্মসূচি পরিহার করেন। 

আই.কে.জে/


ট্রেনে নাশকতা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250