ছবি: সংগৃহীত
৯ আসর পর অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) খেলোয়াড় নিলাম। রোববার (৩০শে নভেম্বর) রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে সেটি ঘিরে রোমাঞ্চ ছুঁয়ে যাচ্ছিল দল গড়ার দায়িত্বে থাকা প্রতিযোগী ৬ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতিনিধিদের।
তবে নির্ধারিত সময়ে নিলামের টেবিলে বসার সুযোগ হয়নি তাদের। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন ‘লাল তালিকায়’ থেকে বিপিএলের আগেই বাদ পড়া কয়েকজন ক্রিকেটার।
অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সেই রিট খারিজ হলে এক ঘণ্টা পর শুরু হয় খেলোয়াড় বিক্রির কার্যক্রম, যেখানে প্রথম ডাকেই কোটিপতি বনে যান নাঈম শেখ। শুরুতে দল পাওয়া নিয়ে শঙ্কা থাকলেও পরে ঠিকানা খুঁজে পান মাহমুদ উল্লাহ ও মুশফিকুর রহিম।
বিপিএলের সর্বশেষ মৌসুমে স্পট ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ৯ ক্রিকেটারকে লাল তালিকাভুক্ত করে নিলামের আগেই ছেঁটে ফেলে বিসিবি। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রোববার হাইকোর্টে তিনটি রিট আবেদন করা হয়।
যদিও হাইকোর্ট সেই আবেদনগুলো সরাসরি খারিজ করে দেন। তবে এ কারণে পিছিয়ে যায় বিপিএলের নিলাম অনুষ্ঠান। পরে কার্যক্রম শুরু হলে একটি ভিডিও বার্তায় টুর্নামেন্টের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বানে জোরালো বার্তা দেন বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগের পরামর্শক অ্যালেক্স মার্শাল, ‘বাংলাদেশে ক্রিকেটকে সুরক্ষিত রাখতে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি। বিপিএল ১২-কে সফল করতে আমি দেশের সবার সঙ্গে মিলে কাজ করতে মুখিয়ে আছি।'
এরপর নিলাম শুরু হলে প্রথমেই ‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকা নাঈম শেখকে নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু করে বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় এই বাঁহাতি ওপেনারকে দলে নেয় চট্টগ্রাম রয়ালস। এরপর একই ক্যাটাগরির আরেক ক্রিকেটার, বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাসকে নিলাম থেকে ৭০ লাখ টাকায় পেয়ে যায় রংপুর রাইডার্স।
পরে ৩৫ লাখ টাকার ‘বি’ ক্যাটাগরিতে থাকা তাওহিদ হৃদয়কে ৯২ লাখ টাকা দিয়ে দলে ভেড়ায় দলটি। যদিও অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটার মাহমুদ উল্লাহ ও মুশফিকের প্রথম ডাকে আগ্রহ দেখায়নি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি।
পরে স্থানীয় ক্রিকেটারদের দলে টানার নির্ধারিত কোটা শেষে বাড়তি খেলোয়াড় নেওয়ার ভাবনায় আলোচনায় আসেন এই দুজন। নিয়ম অনুযায়ী এক ধাপ অবনমন হয়ে ২২ লাখ টাকার ‘সি’ ক্যাটাগরিতে নেমে যাওয়ার কথা ছিল তাদের।
তবে বিসিবির পরিচালক ইশতিয়াক সাদেকের পরামর্শে মুশফিক-মাহমুদকে সম্মান দেখিয়ে ‘বি’ ক্যাটাগরিতেই রাখেন আয়োজকেরা। সেখান থেকে মাহমুদকে দলে নেয় রংপুর। মুশফিককে নেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
মাহমুদ-লিটনকে দলে পেয়ে রংপুরের সরাসরি চুক্তির ক্রিকেটার নুরুল হাসান বেশ উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেন, ‘আমি খুবই রোমাঞ্চিত—রিয়াদ ভাইয়ের সঙ্গে একই দলে খেলব। লিটন আছে, রিয়াদ ভাই আছে—আমি মনে করি, আমাদের রসায়নটা অনেক জমবে।’
এবারের বিপিএলে ফাইনাল খেলার আশা নুরুলের, ‘যে দল হয়েছে, আমরা মোটামুটি খুশি। এবার মাঠে সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার চেষ্টা করব। লক্ষ্য থাকবে ফাইনাল খেলার।’
খবরটি শেয়ার করুন