মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জন্য দোয়ার আয়োজন, অতঃপর... *** ১০ বছরে বাংলাদেশে শ্রমবাজারে প্রবেশ করা অর্ধেক তরুণই কাজ পায়নি: বিশ্বব্যাংক *** ‘জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি আপস করায় প্রধানমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ করা উচিত’ *** সরকারের প্রশাসক-ভিসি নিয়োগ ‘গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার পরিপন্থী’: জামায়াত *** ‘বিএনপিকে যারা মানবে না, তারা ফ্যামিলি কার্ড পাবে না’ *** পয়লা বৈশাখে টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী *** চীন কখনো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি: জামায়াত আমির *** প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরে মধ্যপ্রাচ্য অগ্রাধিকার পেতে পারে *** ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানি নিহত, দাবি ইসরায়েলের *** নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিল আমিরাত

কালের কণ্ঠের ‘ডিক্লারেশন’ কেন বাতিল হবে না, সাবেক ১১ কর্মীর বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৩:৪২ অপরাহ্ন, ১লা ডিসেম্বর ২০২৫

#

ফাইল ছবি

বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন দৈনিক কালের কণ্ঠের ‘ডিক্লারেশন’ বাতিল প্রশ্নে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।একই সঙ্গে রিট আবেদনকারী পত্রিকাটির সাবেক ১১ কর্মীকে তাদের বকেয়া পাওনা ১৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার (১লা ডিসেম্বর) রুলসহ এ আদেশ দেন।

দৈনিক কালের কণ্ঠের ‘ডিক্লারেশন’ বাতিল চেয়ে গত ১৩ই অক্টোবর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন পত্রিকাটির সাবেক ১১ কর্মী। রিটটি শুনানির জন্য আজ আদালতের কার্যতালিকায় ১০৬ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী মানজুর আল মতিন শুনানি করেন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী দেবাশীষ দেব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আখতার হোসেন মো. আবদুল ওয়াহাব।

পরে আইনজীবী মানজুর আল মতিন বলেন, কালের কণ্ঠের ডিক্লারেশন কেন বাতিল হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। বকেয়া ও পাওনা বিষয়ে রিট আবেদনকারী সাবেক কর্মীদের প্রতি চেক ইস্যু করেছিল পত্রিকা কর্তৃপক্ষ, যা প্রত্যাখ্যত হয়। সেখানে পর্যাপ্ত তহবিল নেই বলা ছিল। কথা হচ্ছে, যে পত্রিকার অর্থাৎ কালের কণ্ঠের ফান্ড নেই, সেই পত্রিকার ডিক্লারেশন থাকে কী করে? ১৫ দিনের মধ্যে রিট আবেদনকারীদের বকেয়া পাওনা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রিটে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর ও কালের কণ্ঠের প্রকাশক ময়নাল হোসেন চৌধুরীকে বিবাদী করা হয়।

রিটের প্রার্থনায় নিয়মিত প্রকাশনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ নিশ্চিতে কালের কণ্ঠ পত্রিকা কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা হারানোয় কেন পত্রিকাটির ঘোষণাপত্রের অনুমোদন বাতিল করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়। কালের কণ্ঠ পত্রিকা থেকে পদত্যাগ করা বা বরখাস্ত হওয়া রিট আবেদনকারী/সাংবাদিকদের বকেয়া পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রকাশকের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয় রিটে।

রিট আবেদনকারীদের অপর আইনজীবী দেবাশীষ দেব বলেন, রিটে যেভাবে রুল প্রার্থনা করা হয়েছিল, সেভাবে রুল হয়েছে। একই সঙ্গে রিট আবেদনকারী সাবেক ১১ কর্মীর বকেয়া পাওনা ১৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান, বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কালের কণ্ঠের প্রকাশকের প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনের যুক্তি অনুযায়ী, বকেয়া পরিশোধের জন্য রিট আবেদনকারীরা গত ১৭ই আগস্ট বিবাদীদের বরাবর আইনি নোটিশ পাঠান। তবে বিবাদীরা (বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কালের কণ্ঠের প্রকাশক) বকেয়া পরিশোধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। নীরব ভূমিকা পালন করেছেন, যা আবেদনকারী/সাংবাদিকদের বঞ্চিত করার অভিপ্রায় প্রকাশ করে। পরিস্থিতিদৃষ্টে কালের কণ্ঠ পত্রিকার নিয়মিত প্রকাশনা অব্যাহত রাখার সক্ষমতা কর্তৃপক্ষ হারিয়েছে। কারণ, রিট আবেদনকারী বা সাংবাদিকদের দেওয়া চেক অপর্যাপ্ত তহবিলের জন্য প্রত্যাখ্যাত হয়।

রিট দায়েরের পর গত ১৩ই অক্টোবর আইনজীবী দেবাশীষ দেব  বলেছিলেন, চেকগুলো ব্যাংকে জমা দিলে অপর্যাপ্ত তহবিল দেখিয়ে তা ফেরত দেওয়া হয়। এ কারণে কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ পত্রিকাটি চালানোর প্রয়োজনীয় অর্থ জোগানে সক্ষমতা হারিয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। ১৯৭৩ সালের প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস (ডিক্লারেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন) অ্যাক্টের ২০ ধারা অনুসারে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আর্থিক সক্ষমতা হারালে কোনো পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল করতে পারেন। এসব যুক্তি তুলে ধরে কালের কণ্ঠের ডিক্লারেশন বাতিল চেয়ে এবং আবেদনকারীদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করা হয়।

রিট আবেদনকারী ১১ জন হলেন মো. শাহ আলম, মো. জাহেদুল আলম, কাকলী প্রধান, দেওয়ান আতিকুর রহমান, আবু সালেহ মোহাম্মদ শফিক, কে এম লতিফুল হক, আসাদুর রহমান, মো. রোকনুজ্জামান, শামসুন নাহার, মো. লতিফুল বাশার ও হানযালা হান।

জে.এস/

হাইকোর্ট

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250