বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং খাতে বঞ্চনার শিকার মুসলিমরা *** সরকারি কর্মচারীদের পাঁচ বছরের বেশি থাকা ঠিক না: প্রধান উপদেষ্টা *** আড়াই মাস চেষ্টা করেও আল জাজিরা তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার নিতে পারেনি *** মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে *** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমান বিধ্বস্তের আগে ‘রহস্যজনক নীরবতা’ *** ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সংকেত বুঝতে পারছে না সরকার *** ‘আমি কিন্তু আমলা, আপনি সুবিচার করেননি’ *** প্রধান উপদেষ্টার কাছে অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি *** ভারত-ইউরোপের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি *** ‘গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন হুমকি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়’

মাহমুদুর রহমান সম্পর্কে এ কেমন 'মন্তব্য' বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টার

জেবিন শান্তনু

🕒 প্রকাশ: ০৭:৩২ অপরাহ্ন, ৮ই জানুয়ারী ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা জাহিদ এফ সরদার সাদী দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন। মাহমুদুর রহমানকে তিনি 'মামলাবাজ বাটপার' উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারপারসনের ঢাকার গুলশানের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মাহমুদুর রহমানের শোক জানানোর বিষয়টির সমালোচনা করেছেন। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে সরদার সাদী এই সমালোচনা করেন।

২০১৫ সালে বাংলাদেশের সেই সময়ের পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপ চেয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে স্মারকলিপি দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যদের ভুয়া বিবৃতি নিয়ে জেরার মুখে পড়তে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের। দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচিত ওই কর্মকাণ্ডের পেছনে ছিলেন খালেদা জিয়ার ওই সময়ের উপদেষ্টা জাহিদ এফ সরদার সাদী। এই কলংকিত কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি। জাহিদ সাদী বিএনপির বৈদেশিক বিষয়ক দূত এবং খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছিলেন ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে।

সরদার সাদী গত রোববার (৪ঠা জানুয়ারি) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, '(খালেদা জিয়াকে) হাসপাতালে তো দেখতে যানই নাই, জানাজাতেও অংশ নেননি মজলুম নামের মামলাবাজ বাটপার (আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান), (খালেদা জিয়ার মৃত্যুর) পাঁচদিন পর এসেছেন শোক জানাতে মোনাফেকটা, তারপরও আপ্যায়ন করা হয়। এটাই জিয়া পরিবারের সৌন্দর্য, তবে দূরত্ব বজায় রেখে। সাধু সাবধান, ছবি কথা বলে।'

পোস্টের সঙ্গে বিএনপির গুলশানের কার্যালয়ে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের একটি ছবি শেয়ার করেন জাহিদ এফ সরদার সাদী। ছবিতে মাহমুদুর রহমান তার আমার দেশের সহকর্মীদের নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলাপরত। সরদার সাদীর এই পোস্ট ব্যাপকভাবে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এর পক্ষে-বিপক্ষে নেটিজেনদের আলোচনা চলছেই। যে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সরদার সাদী পোস্টটি দিয়েছেন, সেটি কর্তৃপক্ষের ভেরিফায়েড করা নয়।

সুখবর ডটকম নিশ্চিত হয়েছে, ভেরিফায়েড না হলেও অ্যাকাউন্টটি জাহিদ এফ সরদার সাদী নিজেই পরিচালনা করেন। তার দুটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। একটি ভেরিফায়েড, অন্যটি ভেরিফায়েড নয়। মাহমুদুর রহমানকে নিয়ে দেওয়া পোস্টটি তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার দিয়েছেন। মাহমুদুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তির বিষয়ে একাধিক উপায়ে চেষ্টা করেও সুখবর ডটকম জাহিদ এফ সরদার সাদীর বক্তব্য জানতে পারেনি।

সুখবর ডটকম খোঁজ নিলে জানতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের ছয়জন কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুই উপদেষ্টা এবং বৈদেশিক বিষয়ক বিশেষ দূতকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় ২০১৫ সালে। তারা হলেন জাহিদ এফ সরদার সাদী ও মজিবুর রহমান মজুমদার। মজিবুর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক।

বিএনপির নামে কথিত এক স্মারকলিপিতে যুক্তরাষ্ট্রের ছয় কংগ্রেস সদস্যের স্বাক্ষর তখন জাল করেন জাহিদ এফ সরদার সাদী। বাংলাদেশের তখনের পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপ চেয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে স্মারকলিপি দিতে গিয়ে কংগ্রেস সদস্যদের ভুয়া বিবৃতি নিয়ে জেরার মুখে পড়তে হয় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের। ওয়াশিংটন ডিসিতে পররাষ্ট্র দপ্তর ও কংগ্রেসে ৪৮ পৃষ্ঠার ওই স্মারকলিপি দিতে যায় বিএনপির প্রতিনিধিদল।

এর কয়েক দিন আগেই খালেদা জিয়াকে নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ছয় সদস্যের একটি ভুয়া বিবৃতির কথা জানায় বিএনপি। ওই বিবৃতি লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির তখনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এক সহকারী সংবাদমাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন বলে পরে জানা যায়। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

কংগ্রেসম্যানদের স্বাক্ষর জালিয়াতির ব্যাপারে স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ক্যাপিটাল হিলের কর্মকর্তারা বিএনপির নেতাদের নানা প্রশ্ন করেন। এর জবাবে মার্কিন কর্মকর্তাদের তারা ওই জালিয়াতি ঘটনার নিন্দা করেছেন জানিয়ে বলেন যে, বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা সরকারের লোকজন এসব করছেন। এই অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নিয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বাংলাদেশ ডেস্কের প্রধান গিলবার্ট মর্টন বিএনপির স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন। প্রতিনিধি পরিষদে ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান এড রয়েসের কার্যালয়ে স্মারকলিপি নেন তার ব্যক্তিগত সহকারী। একইভাবে ইউএস সিনেটে ফরেন রিলেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর বব কোরকারের কনস্টিটুয়েন্সি সার্ভিস রিপ্রেজেনটেটিভ হেইলি হামফ্রির কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

জাহিদ সাদী বিএনপির বৈদেশিক বিষয়ক দূতও ছিলেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত পত্রে তাকে এই নিয়োগ দেওয়া হয়। জাহিদ সাদী ২০০৯ সাল পর্যন্ত নয় বছরে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে ২৭ বার গ্রেপ্তার হয়ে প্রতিটি অপকর্মের দোষ স্বীকার করে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি ভোগ করেছেন।

মাহমুদুর রহমান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250