বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং খাতে বঞ্চনার শিকার মুসলিমরা *** সরকারি কর্মচারীদের পাঁচ বছরের বেশি থাকা ঠিক না: প্রধান উপদেষ্টা *** আড়াই মাস চেষ্টা করেও আল জাজিরা তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার নিতে পারেনি *** মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে *** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমান বিধ্বস্তের আগে ‘রহস্যজনক নীরবতা’ *** ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সংকেত বুঝতে পারছে না সরকার *** ‘আমি কিন্তু আমলা, আপনি সুবিচার করেননি’ *** প্রধান উপদেষ্টার কাছে অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি *** ভারত-ইউরোপের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি *** ‘গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন হুমকি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়’

‘বঙ্গবন্ধু’ বিশেষণ নয়, এটি বিশেষ্য পদ

উপ-সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ০৯:২৯ অপরাহ্ন, ৪ঠা নভেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

মাহবুব কামাল

টেলিভিশনে আমার অতিঘনিষ্ঠ এবং অতিপ্রিয়ও বটে, আহসান কবিরের কথাগুলো শুনছিলাম। তিনি বলছেন, এ দেশে সবচেয়ে ভারতবিরোধীর নাম শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি দু'টি জোরালো যুক্তি দিয়েছেন।

১. ২৫শে মার্চ রাতে অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতার মতো তিনিও ভারতে আশ্রয় নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি মৃত্যুর আশঙ্কাকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানের কারাগারকেই বেছে নিয়েছিলেন।

২. স্বাধীনতার পর দেশে ফেরার পথে তিনি দিল্লিতেই ইন্দিরা গান্ধীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি তার সেনাবাহিনীকে কবে ফেরত নিচ্ছেন। এটাই ছিল তার প্রথম কনসার্ন। এবং ঠিকই ১৭ই মার্চ তার জন্মদিনের আগেই ভারতীয় সেনাবাহিনী চলে গিয়েছিল।

ধন্যবাদ কবির। তবে আপনি আরেকটি বড় যুক্তি তুলে ধরেননি। ইন্দিরা গান্ধী কী মনে করবেন ভাবেননি, তিনি ইসলামী দেশগুলোর সংগঠন ওআইসি'র সদস্যপদ নিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধু এক বিদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলার সময় বলেছিলেন, আমি শক্তি-পরাশক্তি বুঝি না, আমি বুঝি পৃথিবী দুই ভাগে বিভক্ত, শোষক ও শোষিত, আমি শোষিতের পক্ষে। তাতে যদি আমার অবস্থা চিলির আলেন্দের মতো হয়, অসুবিধা নেই।

১৯৭৩ সালে  চিলিতে সামরিক অভ্যুত্থানের সময় আলেন্দের কী পরিণতি হয়েছিল, আমরা জানি। বঙ্গবন্ধু শোষিতের পক্ষে থাকতে চেয়েছিলেন বলেই বোধকরি, তিনি কমিউনিজমের আদলে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা ছিল একটা মস্ত ভুল। এই গুরুতর ভুলের কারণ হলো, পৃথিবীর সব জাতীয়তাবাদী নেতাই, নেপোলিয়ন থেকে শুরু করে সবাই মনে করেন, তিনি ক্ষমতা থেকে চলে গেলে দেশের বারোটা বাজবে। বঙ্গবন্ধু এই চিন্তাতেই স্বৈরশাসক হয়ে উঠেছিলেন।

অনেককে দেখি, 'বঙ্গবন্ধু' বলেন না, বলেন 'শেখ মুজিব', কেউ আবার একটু ভদ্রতা করে বলেন 'শেখ সাহেব'। আসলে 'বঙ্গবন্ধু কোনো বিশেষণ নয়, এটা এখন বিশেষ্য পদে পরিণত হয়েছে। এটা তার নামেরই একটি অংশ।

দুই.

ঐকমত্য কমিশন এত বেশি সংস্কার প্রস্তাব জট ডাউন করেছিল যে, তা সাত খণ্ডের রামায়ণ হয়ে গিয়েছিল। যা হোক, জুলাই সনদে প্রস্তাব কমে এসে তিন-চার খণ্ড হয়েছে। তো আমি দু'-একটি টেলিভিশনে বলেছিলাম, দুই-একটি ওষুধে যে রোগ সারে না, দুই মুঠভর্তি ওষুধে তা সারবে না। কথাটা একটু বাড়াই।

ইংরেজি holistic মানে সামগ্রিক। চিকিৎসায় holistic medicine ব্যবহৃত হয়। এই ওষুধ শুধু শরীরের লক্ষণগুলোই আমলে নেয় না, পুরো মানুষটিকে বুঝতে চায়। আমাদের অসুখ সারাতে হলে হলিস্টিক ওষুধ লাগবে। অর্থাৎ পুরো রাষ্ট্রটিকে বুঝতে হবে। দু'-একটি নির্বাচনে অসুখ সারবে না। কথা ক্লিয়ার?

লেখক: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, কলামিস্ট ও টকশো তারকা

মাহবুব কামাল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250