বুধবার, ১৮ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সরকার গঠনের ২৮ দিনে প্রধানমন্ত্রীর ২৮ পদক্ষেপ ‘অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’ *** মুসলিম হও, নয়তো মৃত্যু—নাইজেরিয়ায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে জঙ্গিদের হুমকি *** ইরান যুদ্ধের মধ্যেই কিউবা দখলের হুমকি, ট্রাম্পের মতিগতি কী? *** ধর্ষণ প্রতিকারে বিশেষ পদক্ষেপ নেবে সরকার *** চা বিক্রেতা বৃদ্ধা ও নাতনির কাছে ঈদ উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী *** কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের হস্তক্ষেপ দাবি আওয়ামী লীগের *** কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জন্য দোয়ার আয়োজন, অতঃপর... *** ১০ বছরে বাংলাদেশে শ্রমবাজারে প্রবেশ করা অর্ধেক তরুণই কাজ পায়নি: বিশ্বব্যাংক *** ‘জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি আপস করায় প্রধানমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ করা উচিত’ *** সরকারের প্রশাসক-ভিসি নিয়োগ ‘গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার পরিপন্থী’: জামায়াত

স্ত্রীকে মাদক খাইয়ে অচেতন করে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করতেন তিনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, ২০শে ডিসেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

জার্মানিতে মাদক সেবনের মাধ্যমে অচেতন করে স্ত্রীকে বছরের পর বছর ধরে ধর্ষণ এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে শেয়ার করার দায়ে আদালত এক ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। এই ঘটনা ফ্রান্সের আলোচিত ‘ডমিনিক প্যালিকট’ মামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

ফার্নান্দো পি (৬১) নামের এক স্কুল পরিচ্ছন্নতাকর্মী তার নিজের বাড়িতেই স্ত্রীকে মাদক খাইয়ে অচেতন করে নির্যাতন করতেন। তিনি এই নির্যাতনের ভিডিও চিত্র ধারণ করতেন এবং স্ত্রীর অজান্তেই সেগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিতেন। খবর সিএনএনের।

শুক্রবার (১৯শে ডিসেম্বর) জার্মানির আখেন শহরের একটি আদালত ফার্নান্দোকে ৮ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালতের মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ৩৪টি ক্ষেত্রে স্ত্রীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন। এর মধ্যে অন্তত চারটি ঘটনায় ধর্ষণ ও শারীরিক ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তদন্তে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর ধরে ফার্নান্দো নামের ওই ব্যক্তি এই অপরাধ করে আসছিলেন। তবে আদালত ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ের অপরাধের জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। তিনি গ্রুপ চ্যাট ও ইন্টারনেটের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এসব ভিডিও শেয়ার করতেন।

জার্মানির মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই মামলা জার্মানির আইনি ব্যবস্থার বড় একটি ফাঁক সামনে এনেছে।

জার্মানিতে বর্তমানে আইন ‘না’ মানে ‘না’ নীতি মেনে চলে। এই নীতি অনুযায়ী, ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিকে মৌখিকভাবে বাধা দিতে হয়। কিন্তু এই মামলায় স্ত্রীকে মাদক খাইয়ে অচেতন করা হয়েছিল। ফলে তার পক্ষে ‘না’ বলা সম্ভব ছিল না। অধিকারকর্মীরা এখন ‘হ্যাঁ’ মানে ‘হ্যাঁ’ (সম্মতি থাকলেই কেবল যৌন সম্পর্ক বৈধ) নীতি চালুর দাবি জানাচ্ছেন।

ফ্রান্সেও একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে ডমিনিক প্যালিকট তার স্ত্রীকে মাদক খাইয়ে অসংখ্য অপরিচিত পুরুষকে দিয়ে ধর্ষণ করিয়েছিলেন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও চ্যাটরুমগুলো এখন অপরাধীদের জন্য ‘সহিংসতার বড় ক্ষেত্র’ হয়ে উঠেছে। এখানে তারা মাদক খাওয়ানো বা নির্যাতনের কৌশল একে অপরের সঙ্গে শেয়ার করে।

অধিকারকর্মীরা আশা করছেন, এই রায়ের ফলে ইন্টারনেটে নারীদের ওপর চলা এমন ভয়াবহ সহিংসতা বন্ধে কড়া আইন প্রণীত হবে। এমন আইন হলে অপরাধীরা আর নিজেদের নিরাপদ মনে করতে পারবে না।

জে.এস/

ধর্ষণ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250