ছবি: সংগৃহীত
ক্রিকেট নিয়ে তামিম ইকবালের ব্যস্ততা অনেকটাই কম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলা তামিম সবশেষ প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে খেলেছেন এ বছরের মার্চে। ক্রিকেটের চেয়ে বরং অন্যান্য ঘটনায় তাকে নিয়ে চলে আলাপ-আলোচনা। তামিমকে নিয়ে এরপর কী করা যায়, সেটা নিয়ে ভাবছেন দেশের সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক।
এ বছরের ৬ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবির নির্বাচনে সভাপতি হওয়ার দৌড়ে ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও তামিম ইকবাল। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ করে শেষ পর্যন্ত নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন তামিম। এমনকি নির্বাচনের দিনও তামিম ফেসবুকে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন। পরবর্তীতে বুলবুল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চার বছরের মেয়াদে বিসিবির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমিনুল হকের কাছে যখন তামিমকে নিয়ে প্রশ্ন হয়েছে, তখন এসেছে সদ্য সমাপ্ত বিসিবির নির্বাচনের প্রসঙ্গও। আমিনুল বলেন, ‘এটাকে (বিসিবি নির্বাচন) একটি মহল রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। যেটা আমরা আসলে কখনোই আশা করিনি। ভবিষ্যতে ক্রিকেট বোর্ড কীভাবে গঠিত হবে বা বর্তমানে যেহেতু ক্রিকেট বোর্ড গঠিত হয়েছে, সেটা আসলে আমরা ভবিষ্যতের ওপরই ছেড়ে দেব। ক্রিকেট বোর্ড যেহেতু চার বছরের জন্য। কিন্তু এখানে অনেক প্রশ্ন আছে। ক্রিকেট বোর্ডের এই নির্বাচন ঘিরে মামলাও রয়েছে কিছু। এগুলো চলবে আইন অনুযায়ী। আমরা সেটার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে চাই।’
সাবেক ফুটবলারের পাশাপাশি আমিনুলের রাজনৈতিক পরিচয়ও আছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী দেশের এই সাবেক ফুটবলার। জাতীয় নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে হবে। আর আমিনুল-তামিমকে এখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রায়ই একসঙ্গে দেখা যায়। দেশের সাবেক ফুটবলার বলেন, ‘তামিম ইকবাল যে আমাদের বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছে, বিষয়টি এ রকম নয়।’
তিনি বলেন, ‘এখানে তামিম ইকবালসহ যারা কাজ করেছেন বা ভবিষ্যতে ক্রিকেট বোর্ডে আসতে চান, আমরা চেয়েছি যাতে বিষয়টা অবাধ, সুষ্ঠু হয়। যাতে একেবারে নিরপেক্ষভাবে ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনটা হয়। সেই চিন্তা থেকে একজন ক্রিকেটার হিসেবে যেহেতু তামিম ইকবাল একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটার এবং তার সঙ্গে আমাদের বুলবুল ভাই থেকে শুরু করে যারাই ছিলেন, আমরা চেয়েছি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্রিকেট বোর্ডটা গঠিত হোক।’
বিসিবির নির্বাচনকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বারবার উল্লেখ করেছেন আমিনুল। তবে দেশের সাবেক ফুটবলারের চাওয়া এমনটা যেন ভবিষ্যতে আর না হয়। আমিনুল বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে শতভাগ দলীয়করণমুক্ত, রাজনীতিকরণমুক্ত রাখতে চাই। এটা আজ বলছি। ভবিষ্যতেও বলব একই কথা।’ আমিনুলের কাছে এসে সাকিবের প্রসঙ্গও।
যে সাকিব গত ১৩ মাস ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে পারছেন না। এমনকি ঘরের মাঠে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল), বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও (বিপিএল) খেলার সুযোগ মিলছে না। আমিনুল হক মনে করেন, সাকিবের ব্যাপারে রাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নেবে।
খবরটি শেয়ার করুন