বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং খাতে বঞ্চনার শিকার মুসলিমরা *** সরকারি কর্মচারীদের পাঁচ বছরের বেশি থাকা ঠিক না: প্রধান উপদেষ্টা *** আড়াই মাস চেষ্টা করেও আল জাজিরা তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার নিতে পারেনি *** মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে *** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমান বিধ্বস্তের আগে ‘রহস্যজনক নীরবতা’ *** ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সংকেত বুঝতে পারছে না সরকার *** ‘আমি কিন্তু আমলা, আপনি সুবিচার করেননি’ *** প্রধান উপদেষ্টার কাছে অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি *** ভারত-ইউরোপের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি *** ‘গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন হুমকি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়’

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ সামনে আসবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১১:৫৫ অপরাহ্ন, ১৮ই আগস্ট ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া (স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা) নিজের সিদ্ধান্তে সরকারের একটি প্রকল্প থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে নিয়েছেন।’

তার মতে, তাকে (স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা) নিয়ে কাহিনির যেন শেষ নেই। একের পর এক গুরুতর অভিযোগ, নানা ধরনের গল্প আমাদের সামনে এসে উপস্থিত হচ্ছে। নির্দ্বিধায় এটুকু বলা যায়, তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ আমাদের সামনে আসবে। এটুকু চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়। 

আজ সোমবার (১৮ই আগস্ট) নিজের ইউটিউব চ্যানেল মানচিত্রে 'আসিফ মাহমুদ একাই বাড়িয়ে নিলেন হাজার কোটি টাকা' শিরোনামের এক আলোচনায় তিনি এসব অভিযোগ করেন। সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় সুখবর ডটকমের এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইউটিউবে ভিডিওটি দেখা হয়েছে প্রায় ৬৯ হাজার বার। এতে মন্তব্য এসেছে ৩৭৪টি। মানচিত্র চ্যানেলটি ইউটিউবে খুব জনপ্রিয়।

সাংবাদিক পান্না বলেন, ‘মন্ত্রী পদমর্যাদার একজন ব্যক্তি (আসিফ মাহমুদ) হওয়া সত্ত্বেও সরাসরি চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তার মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, এলাকায় (কুমিল্লার মুরাদনগর) তার বাবার ক্ষমতার দাপটের অভিযোগ, অস্ত্রের লাইসেন্স, হাঁসের মাংস খেতে নীলা মার্কেটে যাওয়া, এমন সব গুরুতর অভিযোগের সঙ্গে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তা হলো, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা সত্ত্বেও সরকারের কিংস পার্টি হিসেবে খ্যাত জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) সার্বিক দিক থেকে সহযোগিতা করে যাওয়া।'

তিনি বলেন, ‘নতুন যে ভয়ানক তথ্য আমাদের কাছে এসেছে, সরকারের একটি প্রকল্প থেকে তার (আসিফ মাহমুদ) ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে নেওয়া হলো, তার একার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। উপদেষ্টা পরিষদের আর সবাই যেখানে বিরোধিতা করেছেন, তার (আসিফ মাহমুদ) একার সিদ্ধান্তে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে নেওয়া হলো এবং সম্ভবত গতকাল রোববার (১৭ই আগস্ট) একনেকের সভায় এটি পাস হয়েছে। দৈনিক কালের কণ্ঠ এটি নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।’

উল্লেখ্য, সোমবার দৈনিক আমার দেশের ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'দেশের সব উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। শেখ রাসেলের নামে এই স্থাপনা বানাতে প্রথম পর্যায়ে প্রতিটির পেছনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৫১ লাখ টাকা। কয়েক বছরের ব্যবধানে তা ২৮ গুণ বাড়িয়ে খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ কোটির বেশি। গতকাল রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সব উপদেষ্টার আপত্তি সত্ত্বেও প্রকল্পটি পাস করিয়ে নিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।'

অবশ্য সোমবার রাতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আমার দেশের প্রকাশিত সংবাদটির প্রতিবাদ জানিয়ে প্রকল্পটি নিয়ে ব্যাখ্যা দেয়। এতে মন্ত্রণালয় দাবি করে, ‘৫১ লাখ টাকার স্টেডিয়াম ১৪ কোটি টাকায় করার অনুমোদন, বেশিরভাগ উপদেষ্টার আপত্তি সজীব ভূঁইয়ার আগ্রহে পাস’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি অসত্য, তথ্যগতভাবে অসম্পূর্ণ এবং প্রকল্পের বাস্তব পরিস্থিতি উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা নূর আলমের সই করা প্রতিবাদলিপিটি গণমাধ্যমে পাঠিয়ে ব্যাখা দেওয়া হয়।

মানচিত্র ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও আলোচনায় মঞ্জুরুল আলম পান্না বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নামে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটা করে স্টেডিয়াম করা হবে শেখ রসেলের নামে। কাজ শেষে এর ব্যয় দাঁড়িয়েছিল ৫১ লাখ টাকা। তা এখন বাড়তে বাড়তে সেই ৫১ লাখ টাকার খরচ দাঁড়াচ্ছে ১৪ কোটি টাকার বেশি। তাই বলে এই নয় যে ৫১ লাখ টাকা থেকে এক লাফে ১৪ কোটি টাকাতে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগও বাড়িয়েছে।'

তিনি বলেন, '২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১৩১টি মিনি স্টেডিয়ামের জন্য খরচ হয়েছিল ৬৬ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্রতিটির পেছনে ব্যয় দাঁড়িয়েছিল ৫১ লাখ টাকা। ২০১৯ সালে এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায় শেষ হওয়ার পর যখন দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়, তখন আওয়ামী লীগ প্রতিটির ব্যয় ধরেছিল ৮ কোটি ৮৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। আওয়ামী লীগও কী পরিমাণ দুর্নীতি করেছিল। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালে দুই বছরের মধ্যে একেবারে ৮ কোটি ৮৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা হওয়ার তো কথা নয়। আমরা এখানে আওয়ামী লীগের সরকারের বিরুদ্ধে বড় দুর্নীতির অভিযোগ দাঁড় করাতেই পারি। আওয়ামী লীগের সময় যে ভয়ংকর বড় দুর্নীতি হয়েছিল, এটিও তার একটি প্রমাণ হতে পারে।'

তিনি বলেন, সেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এই সরকার খুব উচ্চকণ্ঠ। ৮০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির নাকি খোঁজ পাওয়া গেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সকাল-বিকেল যেখানে যান, দেশে কিংবা বিদেশে সব জায়গায় গিয়ে একই গল্প দিয়ে আসছেন। কিন্তু তার সরকারের মধ্যে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা কী করছেন? যে কথিত গণ-অভ্যুত্থান বা গণবিপ্লব, যা তাদের ভাষা অনুযায়ী হয়েছে, একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য, এটিই কি তার নমুনা? আওয়ামী লীগ দুর্নীতি করেছে, নানা অপকর্ম করেছে, সেটা আমরা সারা বছরই বলছি, কিন্তু আপনারা (অন্তর্বর্তী সরকার) কী করছেন?

গণমাধ্যম সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250