বুধবার, ১৮ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ড. ইউনূসের চেয়ে বড় বাটপার বাংলাদেশের সরকারে কেউ আসেননি: আনিস আলমগীর *** সরকার গঠনের ২৮ দিনে প্রধানমন্ত্রীর ২৮ পদক্ষেপ ‘অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’ *** মুসলিম হও, নয়তো মৃত্যু—নাইজেরিয়ায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে জঙ্গিদের হুমকি *** ইরান যুদ্ধের মধ্যেই কিউবা দখলের হুমকি, ট্রাম্পের মতিগতি কী? *** ধর্ষণ প্রতিকারে বিশেষ পদক্ষেপ নেবে সরকার *** চা বিক্রেতা বৃদ্ধা ও নাতনির কাছে ঈদ উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী *** কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের হস্তক্ষেপ দাবি আওয়ামী লীগের *** কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জন্য দোয়ার আয়োজন, অতঃপর... *** ১০ বছরে বাংলাদেশে শ্রমবাজারে প্রবেশ করা অর্ধেক তরুণই কাজ পায়নি: বিশ্বব্যাংক *** ‘জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি আপস করায় প্রধানমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ করা উচিত’

জিআই স্বীকৃতি পেল ময়মনসিংহের হাতে তৈরি ‘লাল চিনি’

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, ২৭শে আগস্ট ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার প্রায় আড়াই শ' বছরের ঐতিহ্যবাহী আখের রস থেকে হাতে তৈরি মিহি দানার লাল চিনি ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি প্রত্যাশা করছেন, জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় আরও অনেক মানুষ এই চিনি উৎপাদনে আগ্রহী হবেন।

ফুলবাড়িয়ার পলাশতলী চালাপাড়ার কৃষক এনামুল হক বলেন, 'এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন জিআই মর্যাদা পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।' গত বছর উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি দপ্তর যৌথভাবে লাল চিনিকে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের সুপারিশ করে।

স্থানীয়দের মতে, ব্রিটিশ আমলেই ফুলবাড়িয়ার বিভিন্ন গ্রামে লাল চিনি উৎপাদন শুরু হয়েছিল। ধনী পরিবারগুলো এই মিষ্টান্ন আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের উপহার হিসেবে পাঠাতেন।

কৃষক দুলাল মিয়া জানান, বর্তমানে তারা লাল চিনির ভালো দাম পাচ্ছেন। ফুলবাড়িয়ার রাধাকানাই, পলাশতলী, বিদ্যানন্দ, কৈয়ৈরচালা, বাকতা, কুশমাইল, কালাদহ, এনায়েতপুর, রাঙামাটিয়া, সন্তোষপুর ও চৌধারসহ বিভিন্ন গ্রামে এই চিনি উৎপাদিত হয়।

প্রান্তিক কৃষকের জন্য লাল চিনি একটি নগদ অর্থকরী ফসল। এটি বাড়িতে কয়েক ধাপে একাধিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি করা হয়। সাধারণত এটি দুটি পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হয়—ডিঙ্গি (বড় ট্রেতে) এবং ডাং বা দুপ (হাতে)। রাধাকানাই গ্রামের কৃষক আরব আলী বলেন, 'লাল চিনি জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা আখ চাষে আরও যত্নশীল হবো।'

একই গ্রামের আরেক কৃষক ওয়াদুদ মিয়া জানান, লাল চিনির জন্য আখ চাষের খরচ তুলনামূলক কম। কারণ, এতে অল্প পানি, সার ও কীটনাশক লাগে। কৃষকরা আরও জানান, আখের পাতা ও উচ্ছিষ্ট স্থানীয়ভাবে বিক্রি হয়, যা তাদের অতিরিক্ত আয়ের উৎস।

চলতি বছর ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় পাঁচ হাজার ২০০ মেট্রিক টন লাল চিনি উৎপাদন হয়, যার বাজার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, 'এই মৌসুমে লাল চিনির দাম বাড়ায় কৃষকরা ভালো মুনাফা পেয়েছেন।'

ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. নাসরিন আক্তার বানু স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, 'ইতোমধ্যে কয়েক কৃষককে প্রদর্শনী প্লটের আওতায় আনা হয়েছে এবং তাদের উন্নতমানের আখের জাত ও উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে।'

তিনি আরও বলেন, 'দেশে একমাত্র ফুলবাড়িয়াতেই লাল চিনি উৎপাদিত হয় এবং এটি শিল্পে পরিণত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।' যথাযথ পরিকল্পনা নেওয়া হলে লাল চিনি রপ্তানিযোগ্য পণ্য হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

জে.এস/

ময়মনসিংহ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) লাল চিনি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250