বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং খাতে বঞ্চনার শিকার মুসলিমরা *** সরকারি কর্মচারীদের পাঁচ বছরের বেশি থাকা ঠিক না: প্রধান উপদেষ্টা *** আড়াই মাস চেষ্টা করেও আল জাজিরা তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার নিতে পারেনি *** মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে *** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমান বিধ্বস্তের আগে ‘রহস্যজনক নীরবতা’ *** ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সংকেত বুঝতে পারছে না সরকার *** ‘আমি কিন্তু আমলা, আপনি সুবিচার করেননি’ *** প্রধান উপদেষ্টার কাছে অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি *** ভারত-ইউরোপের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি *** ‘গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন হুমকি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়’

ভারতের যে স্কুলে সংবাদপত্র পড়া বাধ্যতামূলক

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, ৩০শে ডিসেম্বর ২০২৫

#

প্রতীকী ছবি

ভারতের উত্তর প্রদেশ সরকার রাজ্যের সব সরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য দৈনিক সংবাদপত্র পড়া বাধ্যতামূলক করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের সাধারণ জ্ঞান, ভাষাদক্ষতা ও সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা উন্নত করা, যাতে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাকে বাস্তব বিশ্বের ঘটনার সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।

নতুন নির্দেশনার আওতায়, ছাত্রছাত্রীরা সকালের প্রাত্যহিক সমাবেশে (অ্যাসেম্বলি) সংবাদপত্র পড়বে এবং প্রধান খবরের বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে। শিক্ষকেরা তাদের প্রতিবেদন বিশ্লেষণে সাহায্য করবেন, যাতে শিক্ষার্থীরা শব্দভান্ডার, পাঠ্য বোঝাপড়া ও যুক্তি-তর্কের দক্ষতা উন্নত করতে পারে। শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে পাঁচটি নতুন শব্দ শিখে তা শেয়ার করার জন্যও উৎসাহিত করা হবে, যাতে কার্যক্রমটি আরও ইন্টারঅ্যাকটিভ ও শিক্ষামূলক হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রণোদিত করবে। নিয়মিত সংবাদপত্র পড়া পাঠাভ্যাস, বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতা, অভিব্যক্তি ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের গুণাবলি বিকাশে সাহায্য করবে।

উত্তর প্রদেশের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের এক এক্স পোস্টে বলা হয়েছে, স্কুল সমাবেশ প্রার্থনাসভায় নিয়মিত সংবাদপত্র পড়ার ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষার্থীরা প্রধান খবরগুলো উঁচু আওয়াজে পড়বে, যাতে তারা সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে পরিচিত হয় এবং তাদের ভাষা বোঝার ক্ষমতা ও চিন্তাশক্তি উন্নত হয়।

উদ্যোগটি একটি অর্থবহ শিক্ষামূলক প্রচেষ্টা, যার মাধ্যমে শিশুদের পড়ার আগ্রহ, যৌক্তিক চিন্তাভাবনা, অভিব্যক্তি প্রকাশের দক্ষতা ও সচেতন নাগরিকত্বের মূল্যবোধ বিকাশ ঘটানো হবে।

স্কুলগুলোয় এ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের। সংবাদপত্র সরকারি খরচে সরবরাহ করা হবে এবং শিক্ষকেরা অনুপ্রেরণামূলক গল্প ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নিয়ে আলোচনা করবেন, যাতে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাগত ব্যবধান কমানো যায়।

এ রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব নির্দেশ দিয়েছেন, নবম ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে একবার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর সম্পাদকীয় লেখার জন্য উৎসাহিত করা উচিত। শ্রেণিকক্ষে দলগতভাবে নানা আলোচনায় অংশগ্রহণ করা উচিত। সামাজিক সমস্যা ও উন্নয়নসম্পর্কিত সংবাদগুলো পড়ে আলোচনা করা উচিত, যা তাদের সমাজের সঙ্গে আরও শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করতে এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, পরিবেশ ও খেলাধুলার ওপর সংবাদপত্রের ক্লিপিং কেটে স্ক্র্যাপবুক তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের যুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সংবাদপত্রে প্রকাশিত সুডোকু, ক্রসওয়ার্ড পাজল ও তথ্যবহুল কুইজ সমাধানের জন্য সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

ডিস্ট্রিক বেসিক এডুকেশন অফিসারকে (বিএসএ) স্কুলগুলোয় সুষ্ঠুভাবে এ সংবাদ পড়ার ব্যাপারটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের খরচে সংবাদপত্র সরবরাহ করা হবে এবং শিক্ষকেরা অনুপ্রেরণামূলক গল্প ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে আলোচনার ব্যাপারটি পরিচালনা করবেন, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাগত ব্যবধান পূরণ করবেন।

জে.এস/

ভারত

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250