বুধবার, ১৮ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ড. ইউনূসের চেয়ে বড় বাটপার বাংলাদেশের সরকারে কেউ আসেননি: আনিস আলমগীর *** সরকার গঠনের ২৮ দিনে প্রধানমন্ত্রীর ২৮ পদক্ষেপ ‘অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’ *** মুসলিম হও, নয়তো মৃত্যু—নাইজেরিয়ায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে জঙ্গিদের হুমকি *** ইরান যুদ্ধের মধ্যেই কিউবা দখলের হুমকি, ট্রাম্পের মতিগতি কী? *** ধর্ষণ প্রতিকারে বিশেষ পদক্ষেপ নেবে সরকার *** চা বিক্রেতা বৃদ্ধা ও নাতনির কাছে ঈদ উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী *** কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের হস্তক্ষেপ দাবি আওয়ামী লীগের *** কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জন্য দোয়ার আয়োজন, অতঃপর... *** ১০ বছরে বাংলাদেশে শ্রমবাজারে প্রবেশ করা অর্ধেক তরুণই কাজ পায়নি: বিশ্বব্যাংক *** ‘জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি আপস করায় প্রধানমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ করা উচিত’

ফুটবল বাঘিনীদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হোক

সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ০৭:০৩ অপরাহ্ন, ১লা নভেম্বর ২০২৪

#

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৪ ফাইনালে দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলার বাঘিনীরা। দুই বছর আগেও একই স্টেডিয়ামে ৩-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। গত ৩০শে অক্টোবর আবারও একবার নেপালকে কাঁদল বাংলাদেশ।কিন্তু নেপালিরা যোগ্যতর দল হিসেবে ফাইনাল খেলেছে। আর নেপালকে হারিয়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধরে রেখেছেন লাল-সবুজের অদম্য সাহসী কন্যারা। যা দেশের শুধুমাত্র  ফুটবল নয়, সকল ক্রীড়াঙ্গনের জন্যই নতুন ইতিহাস। সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বে নারী ফুটবলেরা যা করে দেখিয়েছেন, অন্য কোনো খেলায় আর এমনটি কখনো ঘটেনি।

এবারের আসরে বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।প্রথম  ম্যাচে অবশ্য পাকিস্তানের সঙ্গে  ড্র করেছিল। তারপর সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভারতকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে গ্রুপ সেরা হয়। সেমিফাইনালে ভুটান ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে ফাইনালে উঠে। আর ফাইনালে সাফের শক্তিশালী দল নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। সাফের সাত আসরের ছয় বারই ফাইনাল খেলেছে নেপাল।গত পাঁচ বার হারার কারণে এবার তাদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। নেপালের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত মাঠে উপস্থিত ছিলেন। দর্শক গ্যালারি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। তবে এবারও বাঘিনীদের দাপটে নেপালিদের হতাশা আর আশাভঙ্গ বেদনা নিয়েই ঘরে ফিরতে হয়েছে।

২০২২ সালের মতো এবারও বাংলার টাইগ্রেসদের ছাদ খোলা বাসে করে বিমানবন্দর থেকে বাফুফে ভবনে  নিয়ে আসা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে বাফুফে পর্যন্ত সারা রাস্তায় ফুটবল প্রেমী ভক্তরা উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছে। ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করা হয়েছে। সে এক অভিনব দৃশ্য!

প্রথমবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতার পর থেকেই বেতন-ভাতাসহ বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণ দেখিয়ে সেই দাবি পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তারপর প্রায় এক বছর পর ২০২৩ সালে ১৬ আগস্ট নারী ফুটবলারদের বেতন ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। দেশের ৩১ জন নারী ফুটবলারদের সঙ্গে ছয় মাসের চুক্তিপত্র করে বাফুফে। ৬ মাসের এই চুক্তি ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়। নতুন এই চুক্তিতে তাদের বেতন-ভাতা দ্বিগুণেরও বেশি করা হয়; যা ছয় মাস পর নবায়ন করা যাবে।নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ৩১ জন ফুটবলারের মধ্যে ১৫ জন সর্বোচ্চ ৫০ হাজার, ১৪ জন ৩০ হাজার আর দুইজন ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য দুই মাস বেতন দেওয়ার পরই হাঁপিয়ে উঠে বাফুফে। স্পনসর না পাওয়ার অজুহাতে তাদের বেতন বন্ধ হয়ে যায়।এর প্রতিবাদে নারী ফুটবলাররা সোচ্চার হয়েছিলেন। হইচই পড়ে গিয়েছিল দেশের ক্রীড়াঙ্গনে।একমাস বেতন পাওয়ার পর আবার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।পরবর্তীতে ভিন্ন পন্থা গ্রহণ করে নারী ফুটবলারদের বেতন দেয়া হয়। ফিফার অনুমতি নিয়ে তাদের বার্ষিক অনুদান থেকে নারী ফুটবলারদের বেতন দেয়া হয়,যা আগে কখনো হয়নি।বাংলাদেশের নারী ফুটবলের অগ্রগতি অব্যাহত রাখার জন্য ফিফা এই অনুমতি দিয়েছিল। যা ছিল বিগত কমিটির দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ।তারপর থেকে নিয়মিত ভাবে বেতন-ভাতা কিছুদিন পেয়েছে।তবে এবার খেলতে যাওয়ার আগেও দুই মাসের বেতন-বাতা বাকি ছিল।যা খুবেই লজ্জার।

এবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে ১ কোটি টাকা পুরস্কার দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।অন্যদিকে সাফজয়ী ফুটবল দলের জন্য ২০ লক্ষ টাকা অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ ঘোষণা নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। খেলোয়াড়েরা এককালীন কিছু টাকা পেলে তাদের জন্য ভালো  হবে।

নারী ফুটবল দল বাংলাদেশকে বারবার গর্বিত করেছে। এজন্য সরকার ও করপোরেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। নারী ফুটবলকে আরো এগিয়ে নিতে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা যেমন বাড়াতে হবে তেমনি তাদের  ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।তাহলে আরো বেশি বেশি করে নারী ফুটবলার তৈরি হবে।বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা আরো এগিয়ে যাবে।বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে বারবার গর্বিত করবে।

আই.কে.জে/

ফুটবল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250