ছবি: সংগৃহীত
১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং এর অল্প কিছু সময় পর তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রয়াণ দেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমীকরণে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ দুই ঘটনা জিয়া পরিবারের প্রতি সহানুভূতির জোরালো স্রোত তৈরি করবে, যা নির্বাচনের আগে বিএনপির জনসমর্থন আরো শক্তিশালী করতে পারে বলে দেশি-বিদেশি বিশ্লেষকদের ধারণা।
তাদের মতে, আগামী নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় বিএনপি আরো সুসংহত অবস্থানে উঠে আসছে। খালেদা জিয়ার সদ্য প্রয়াণ সেই অবস্থানকে দলীয় কর্মী-সমর্থক এবং বিশেষ করে সহানুভূতিশীল ভোটারদের মধ্যে মানসিক ও আবেগের দিক থেকে আরো সুদৃঢ় করবে। অনেকে একে বিএনপির পক্ষে সহানুভূতির ঢেউ সৃষ্টি হওয়ার একটি অনুকূল পরিস্থিতি হিসেবে দেখছেন। তারেক রহমানের দেশে ফেরা কেবল পারিবারিক উত্তরাধিকার নয়, বরং নেতৃত্বের প্রশ্নে এক সুস্পষ্ট বার্তাও দিয়েছে। অনেকের কাছে তিনি 'সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী'।
বিএনপির নেতৃত্বে আগামীর সরকার গঠনের জোরালো সম্ভাবনা দেখে দেশের অন্যান্য পেশাজীবীদের মতো গণমাধ্যম ও সাংবাদিকেরাও ভোল পাল্টাচ্ছেন অত্যন্ত দৃষ্টিকটুভাবে। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর অনেক গণমাধ্যম ও সাংবাদিকেরা একতরফা বিএনপির শোক-বন্দনায় মেতে ওঠে আগামীর সরকার থেকে নানা সুবিধা লুটে নেওয়ার নানা হিসাব-নিকাশ এখনই করছেন। ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দেয়াল তারা ভরে তুলছেন বিএনপির প্রশংসায়। এ নিয়ে সমালোচনা, ঠাট্টাও কম হচ্ছে না।
অথচ বছর দেড়েক আগেও এসব 'শুভাকাঙ্ক্ষী, গুণমুগ্ধেরা' ছিলেন বিএনপির কট্টর সমালোচক। দেশের প্রায় সব অপকর্মের মূলে তারা তখন দলটির 'দায়' দেখতেন। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোজাম্মেল হোসেন বিষয়টিকে চিহ্নিত করেছেন 'সংবাদমাধ্যমে শোকসংবাদ নয়, আবেগ ও বিশেষণের বিস্ফোরণ' বলে।
বিএনপির ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রশংসা করতে গিয়ে এখন দেশের চুয়ান্ন বছরের প্রায় সব অপকর্মের 'দায়' প্রচলিত কায়দায় আওয়ামী লীগের ঘাড়ে অনেকে চাপিয়ে দিচ্ছেন অযৌক্তিকভাবে। তাদের মধ্যে ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজ আনাম অন্যতম। প্রবীণ এই সাংবাদিক এক উপসম্পাদকীয়তে দেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী না হওয়ার কারণ হিসেবে আওয়ামী লীগের ডাকা 'নিরবচ্ছিন্ন হরতাল'কে দায়ী করেছেন। তিনি কৌশলী বাক্যে এমন দাবি করেছেন, যেন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি এ দেশে কখনো হরতাল কর্মসূচি পালন করেনি।
নিজের উপসম্পাদকীয়তে মাহফুজ আনাম স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করে দাবি করেছেন, '১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তার (খালেদা জিয়া) সরকারের প্রথম মেয়াদকাল ছিল গণমাধ্যমের জন্য সবচেয়ে স্বাধীন সময়গুলোর একটি। এ জন্যও আমরা তাকে শ্রদ্ধা জানাই।' নাম উল্লেখ না করে তিনি শেখ হাসিনাকে বলেছেন 'সুযোগসন্ধানী'। তার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি দেশে হরতাল কর্মসূচি পালন করেছে কিনা এবং ১৯৯১-'৯৬ সালের সরকারের আমলে গণমাধ্যমের কথিত স্বাধীনতা কেমন ছিল, এর আংশিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে মাহফুজ আনামের মতে দেশের প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দল হলো বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি তার ধর্তব্যের মধ্যে নেই। 'লেসনস ফ্রম মামদানিস ম্যাজিক: পুট ভোটারস অ্যাট দ্য সেন্টার পলিটিক্স' শিরোনামে ডেইলি স্টারের ছাপা সংস্করণে গত ৭ই নভেম্বর প্রকাশিত এক উপসম্পাদকীয়তে তিনি এ কথা বলেন। কোন হিসাব বা পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তিনি জামায়াত ও এনসিপিকে প্রধান দলের তালিকায় ঠাঁই দিলেন, তা ব্যাখ্যা করেননি।
২০০৬ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের মধ্যে মাহফুজ আনাম বিএনপিকে একবারের জন্যও কোনো গণতান্ত্রিক দল বলে তার বক্তব্য ও লেখায় উল্লেখ করেননি। খালেদা জিয়ার আমৃত্যু বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করা এবং শেখ হাসিনার দীর্ঘ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে থাকার প্রশ্নে মাহফুজ আনাম বরাবরই কঠোর সমালোচক। গত কয়েক মাস আগেও তিনি নিজের এক উপসম্পাদকীয়তে তুলে ধরেছেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা না থাকার কথা।
এক এগারোর জরুরি অবস্থার তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপিকে নিয়ে কটূক্তি, বিষোদগার করে সবচেয়ে বেশি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ডেইলি স্টার ও দৈনিক প্রথম আলোতে। মাহফুজ আনাম প্রথম আলোর সাবেক প্রকাশক। প্রয়াণের পর খালেদা জিয়া সম্পর্কে তার নতুন মূল্যায়ন নিয়ে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা শ্রেণি-পেশার নেটিজেনদের মধ্যে তাই আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার বদলে সংসদীয় গণতন্ত্রের দিকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রথম সরকার যাত্রা করে। বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে গতকাল বুধবার (৩১শে ডিসেম্বর) ডেইলি স্টারে প্রকাশিত উপসম্পাদকীয়তে মাহফুজ আনাম বলেন, 'বিদ্যমান রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনে বিরোধী দল আওয়ামী লীগের দাবি মেনে নিয়ে নিজের রাজনৈতিক পরিপক্বতার প্রকৃত পরীক্ষা দেন তিনি (খালেদা জিয়া)। আমাদের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও জনগণের পছন্দ বিবেচনায় নিয়ে তিনি বিরোধীদের এই দাবি মেনে নেন। এতে তার উদারতা ও ভিন্নমত গ্রহণের সক্ষমতা প্রকাশ পায়, যা তিনি নিজে কখনো প্রচার করেননি।'
তিনি দাবি করেন, 'বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি ছিল এক বিরল দৃষ্টান্ত এবং ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির এক সুযোগ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিরোধীরা (জাতীয় সংসদে তখনের বিরোধী দল আওয়ামী লীগ) এটাকে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে না দেখে উল্টো নিরবচ্ছিন্ন হরতালের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলকে হয়রানি করতেই ব্যবহার করেছে—যা পরবর্তীতে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি।'
সুখবর ডটকমের অনুসন্ধান বলছে, বিএনপির ১৯৯১-'৯৬ শাসনামলেও সাংবাদিকেরা চাকরিচ্যুতি, মামলা, কারাবাসসহ নানা হয়রানির শিকার হন। শহীদ জননী জাহানারা ইমামসহ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে ওই সময়ে 'রাষ্ট্রদ্রোহী' মামলা দায়ের হয়। এক মামলায় গ্রেপ্তার হন জনকণ্ঠের সাবেক উপদেষ্টা সম্পাদক প্রয়াত তোয়াব খান, প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী সম্পাদক প্রয়াত বোরহান আহমেদসহ আরো কয়েক সাংবাদিক।
ঢাকায় জনকণ্ঠের প্রধান কার্যালয়ে তখন হামলা হয়। আরেক মামলায় গ্রেপ্তার হন কবি-চিন্তক ফরহাদ মজহার। কারাবাস করতে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীকে। সাপ্তাহিক বিচিত্রা থেকে চাকরিচ্যুত হন সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির। বিএনপির ওই আমলে মামলা হয় বিএনপিপন্থি প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানের বিরুদ্ধেও।
দেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী না হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রায় সময়ের অযৌক্তিক হরতাল পালন ও বিরোধী দলে থাকলে সংসদ বর্জনকে বিশেষভাবে দায়ী করা হয়। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি- দুই দলই কম-বেশি দায়ী বলে মনে করে বিশ্লেষকেরা।
জানা গেছে, ১৯৯১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের অভিযোগে ১৪ই সেপ্টেম্বর হরতাল পালন করে আওয়ামী লীগ। সেই থেকে নব্বইয়ের দশকের পর আবার হরতাল কর্মসূচির শুরু। ১৯৯৪ সালে মাগুরার বহুল বিতর্কিত উপনির্বাচনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে শুরু হয় আওয়ামী লীগের টানা হরতাল। ১৯৯৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ২১ বার হরতাল পালন করে দলটি।
আর ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত বিএনপির একতরফা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা ৩৯ দিন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন চলে। স্বাধীন বাংলাদেশে হরতালের ব্যাপক প্রচলন শুরু হয় ১৯৮২ সালে এরশাদ ক্ষমতায় আসার পর। ১৯৯০ সালের ৭ই ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৬ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে ৮১ দিন জাতীয়ভাবে হরতাল হয়েছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। ১৯৯৬ সালের মার্চ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপি ৪৫ দিন হরতাল করেছে।
২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বিরোধী দল আওয়ামী লীগ সব মিলিয়ে ১৩০ দিন হরতাল করেছে। আর ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সালের ৩০শে অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ৭০ দিন হরতাল পালিত হয়েছে। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের আয়োজিত একতরফা নির্বাচনের প্রতিবাদে বিএনপির নেতৃত্বে ২০-দলীয় জোট অনির্দিষ্টকালীন অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি পালন করে। টানা অবরোধের ২৮০ তম দিনে, অর্থাৎ ২০১৫ সালের ১২ই অক্টোবর উদ্বেগ জানায় বিভিন্ন দেশ।
২০১৫ সালের পর থেকে ২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপি মোট কত বার হরতাল পালন করেছে, এর লিখিত সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে।
তথ্যমতে, ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত অংশ নেয়। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সে নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ওই নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের এক জনসভায় এতে অংশ না নিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে আহবান জানিয়েছিলেন। সেজন্য শেখ হাসিনাকে 'সুযোগসন্ধানী' হিসেবে আখ্যায়িত করে মাহফুজ আনাম তার লেখায় বলেন, 'সুযোগসন্ধানীদের মতো আপস না করার যে দৃঢ়তা তিনি (খালেদা জিয়া) দেখিয়েছিলেন, সেটাই ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির জয়ের অন্যতম মূল কারণ।'
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ্ এ প্রসঙ্গে বলেন, '১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে এমন ধারণা সবার মনে ছিল। কিন্তু সবার সেই চিন্তাকে ভুল প্রমাণ করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। যা সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট ছিল না। যে কারণে সরকার গঠনের জন্য জামায়াতের সমর্থন নিতে হয়েছিল।'
বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ্ সুখবর ডটকমকে বলেন, '১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। খালেদা জিয়ার একটা বিশ্বাস ছিল যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেও সেটি সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ছিল না। যে কারণে এক্ষেত্রেও তিনি প্রতিবাদী হয়ে উঠেছিলেন এবং সংসদে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।'
তিনি বলেন, 'এতে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মহলে দুশ্চিন্তার সৃষ্টি হয়েছিল। নয়টি দেশের কূটনীতিকেরা বেগম জিয়ার বাসায় ছুটে যান তাকে সংসদে আসার জন্য অনুরোধ জানাতে। এছাড়া বিএনপির বাইরে আমরা অনেকেই তাকে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য আবেদন করেছিলাম।'
অনেকে বলছেন, খালেদা জিয়ার জীবন ছিল ঘাত-প্রতিঘাতে পূর্ণ। একদিকে তিনি তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের সংগ্রামের মুখ; অন্যদিকে সমালোচনাও তার পিছু ছাড়েনি। গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে গিয়ে যেমন ভালোবাসা পেয়েছেন, তেমনি তীব্র বিরোধিতাও কম ছিল না। অনেক ভুলের দায় তাকে বহন করতে হয়েছে। কিন্তু তার অটলতা, প্রতিকূলের মুখে দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতা, আর ব্যক্তিজীবনের অবর্ণনীয় ক্ষতবিক্ষত অধ্যায় তাকে আলাদাভাবে স্মরণীয় করে তুলেছে।
প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার মাহফুজ আনামের আলোচ্য কলামটি 'ট্রিবিউট: হার পাসিং শোড ইউনাইট আস অল টু বিল্ড দ্য নেশন' (শ্রদ্ধাঞ্জলি: তার প্রয়াণ আমাদের সকলকে জাতি গঠনে ঐক্যবদ্ধ করবে) শিরোনামে প্রকাশিত হয়।
খবরটি শেয়ার করুন