বুধবার, ১৮ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ড. ইউনূসের চেয়ে বড় বাটপার বাংলাদেশের সরকারে কেউ আসেননি: আনিস আলমগীর *** সরকার গঠনের ২৮ দিনে প্রধানমন্ত্রীর ২৮ পদক্ষেপ ‘অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’ *** মুসলিম হও, নয়তো মৃত্যু—নাইজেরিয়ায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে জঙ্গিদের হুমকি *** ইরান যুদ্ধের মধ্যেই কিউবা দখলের হুমকি, ট্রাম্পের মতিগতি কী? *** ধর্ষণ প্রতিকারে বিশেষ পদক্ষেপ নেবে সরকার *** চা বিক্রেতা বৃদ্ধা ও নাতনির কাছে ঈদ উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী *** কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের হস্তক্ষেপ দাবি আওয়ামী লীগের *** কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জন্য দোয়ার আয়োজন, অতঃপর... *** ১০ বছরে বাংলাদেশে শ্রমবাজারে প্রবেশ করা অর্ধেক তরুণই কাজ পায়নি: বিশ্বব্যাংক *** ‘জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি আপস করায় প্রধানমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ করা উচিত’

ভারতে ছাত্রনেতা উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিন আবারও নামঞ্জুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৪:৪১ অপরাহ্ন, ৫ই জানুয়ারী ২০২৬

#

ফাইল ছবি (সংগৃহীত)

২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গা ষড়যন্ত্র মামলায় জেলবন্দী ছাত্র নেতা উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন ফের খারিজ করে দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। তথ্যসূত্র: বিবিসি।

বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছেন, এই দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা ইউএপিএ আইনের অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা বা ‘প্রাইমা ফেসি’র প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তবে একই মামলায় দীর্ঘ পাঁচ বছর বন্দী থাকার পর অন্য পাঁচ অভিযুক্তকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়েছে।

জামিন খারিজের আদেশ দেওয়ার সময় বিচারপতিরা বলেন, অপরাধের গুরুত্ব ও ষড়যন্ত্রে ভূমিকার নিরিখে সব অভিযুক্তকে একইভাবে বিচার করা সম্ভব নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামের ভূমিকা ষড়যন্ত্রের মূল স্তরে ছিল এবং তারা কেবল সাধারণ বিক্ষোভকারী ছিলেন না। তাদের বিরুদ্ধে সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণ অনুযায়ী, তারা এই ষড়যন্ত্রের ‘কেন্দ্রীয় পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে কাজ করেছেন বলে আদালত মনে করেন।

শীর্ষ আদালত আরও উল্লেখ করেছেন, ইউএপিএ-র মতো কঠোর আইনের ক্ষেত্রে কেবল বিচারপ্রক্রিয়ায় দেরি হওয়ার কারণ দেখিয়ে জামিন পাওয়া যায় না। আদালত বলেন, ‘সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যক্তি স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, রাষ্ট্রের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতা বজায় রাখা জরুরি।’

খালিদ ও ইমামের আবেদন খারিজ হলেও আদালত অন্য পাঁচ অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করেছে। তারা হলেন—গুলফিশা ফাতিমা, মিরান হায়দার, শিফা উর রেহমান, মহম্মদ সালিম খান এবং শাদাব আহমেদ। তাদের ক্ষেত্রে আদালতের মত, এই পাঁচজনের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে কম ছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো উমর বা শারজিলের মতো ততটা গুরুতর নয়। তাদের ১২টি কঠোর শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে এবং শর্ত ভঙ্গ করলে বিচারিক আদালত জামিন বাতিলের ক্ষমতা রাখবে।

দিল্লি পুলিশের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে দাবি করেন, ২০২০ সালের দাঙ্গা কোনো আকস্মিক সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ ছিল না। এটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। পুলিশের অভিযোগ, রেজিম চেঞ্জ বা সরকার পতন এবং দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই দাঙ্গা বাধানো হয়েছিল। শারজিল ইমামের আসামকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করার ‘চিকেন নেক’ সংক্রান্ত ভাষণের ভিডিও ক্লিপও আদালতে পেশ করা হয়।

আদালতে উমর খালিদের আইনজীবী কপিল সিবাল ও ত্রিদীপ পাইস পাল্টা সওয়াল করেন যে, পুরো মামলাটিই পুলিশের সাজানো একটি ‘তামাশা’। খালিদ আগে বলেছিলেন, পুলিশ আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নেয় ‘কাকে ধরতে হবে’ এবং এরপর সেই অনুযায়ী তথ্যপ্রমাণ জাল করে মামলা সাজায়, যাকে তিনি ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে আদালত শেষ পর্যন্ত পুলিশের পেশ করা সংরক্ষিত সাক্ষীদের বয়ান ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটকেই গুরুত্ব দিয়েছেন।

জামিন খারিজ করলেও আদালত উমর খালিদ ও শারজিল ইমামকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। মামলার প্রধান সাক্ষীদের বয়ান নেওয়া শেষ হলে অথবা বর্তমান নির্দেশের পর এক বছর সময় অতিক্রান্ত হলে তারা আবার নিম্ন আদালতে জামিনের আবেদন করতে পারবেন। বর্তমানে তাদের দিল্লির তিহার জেলেই থাকতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের সময় উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রদায়িক সংঘাতে অন্তত ৫৩ জনের মৃত্যু হয়, নিহতদের বেশির ভাগই মুসলিম। এতে আহত হয়েছিলেন ৭০০-রও বেশি মানুষ।

সুপ্রিম কোর্ট

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250