বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং খাতে বঞ্চনার শিকার মুসলিমরা *** সরকারি কর্মচারীদের পাঁচ বছরের বেশি থাকা ঠিক না: প্রধান উপদেষ্টা *** আড়াই মাস চেষ্টা করেও আল জাজিরা তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার নিতে পারেনি *** মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে *** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমান বিধ্বস্তের আগে ‘রহস্যজনক নীরবতা’ *** ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সংকেত বুঝতে পারছে না সরকার *** ‘আমি কিন্তু আমলা, আপনি সুবিচার করেননি’ *** প্রধান উপদেষ্টার কাছে অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি *** ভারত-ইউরোপের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি *** ‘গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন হুমকি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়’

স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধুর ফেরার দিন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০১:২০ পূর্বাহ্ন, ১০ই জানুয়ারী ২০২৬

#

ফাইল ছবি

উদ্বিগ্ন ছিল সদ্য যুদ্ধবিজয়ী বাঙালি জাতি। দীর্ঘ ৯ মাস অস্ত্র হাতে মরণপণ সংগ্রামের সফল পরিণতির ভেতর দিয়ে নিজের করে একটি পতাকা, একটি স্বাধীন–সার্বভৌম দেশ পেলেও যার নেতৃত্বে বীর সন্তানেরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তির সংগ্রামে, সেই অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন হানাদার পাকিস্তানিদের কারাগারে। ফলে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও বিজয়ের সেই আনন্দ যেন অপূর্ণই রয়েছিল বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে।

পরাজিত পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে গড়িমসি করছিল। ফলে দেশবাসীর উদ্বেগ বাড়ছিল। অবশেষে বিশ্বনেতাদের চাপে পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। প্রিয় নেতাকে নিয়ে উদ্বেগ আর প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছিল ৫২ বছর আগের এই দিনে, স্বাধীন দেশের মাটিতে পা রাখলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজ ১০ই জানুয়ারি, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে ঘুমন্ত নিরপরাধ বাঙালির ওপরে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। চালায় বর্বর গণহত্যা। তারা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এর আগেই অবশ্য বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করে হানাদারদের বিরুদ্ধে মুক্তির সংগ্রামের আহ্বান জানান।

ঘাতক বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে আটক করে পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী করে রাখে। দীর্ঘ ৯ মাস কারাভোগের পর ১৯৭২ সালের ৮ই জানুয়ারি ভোরে তিনি মুক্তিলাভ করেন। পাকিস্তান থেকে তিনি প্রথমে লন্ডনে যান। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ছয়টায় হিথরো বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। লন্ডনে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথসহ অনেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। 

সাক্ষাৎকার দেন বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে। এরপর লন্ডন থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিশেষ বিমানে ১০ই জানুয়ারি সকালে দিল্লি পৌঁছান। বিমানবন্দরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনা জানান। মুক্তিযুদ্ধে সহায়তার জন্য তিনি ভারতের নেতৃবৃন্দ ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

স্বদেশে বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানাতে লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল বিমানবন্দরে। ১০ই জানুয়ারি বেলা ১টা ৪১ মিনিটে স্বাধীন দেশের মাটিতে তিনি পা রাখেন। নেতাকে নিজেদের মধ্যে ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা জনতা ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে আকাশবাতাস মুখর করে তোলে।

বিকেলে পাঁচটায় বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সংবর্ধনা সভায় ভাষণ দেন। সে সময়ের পত্রপত্রিকার বিবরণ অনুসারে প্রায় ১০ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছিল সংবর্ধনায়। তিনি সদ্য স্বাধীন দেশটিকে গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250