বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং খাতে বঞ্চনার শিকার মুসলিমরা *** সরকারি কর্মচারীদের পাঁচ বছরের বেশি থাকা ঠিক না: প্রধান উপদেষ্টা *** আড়াই মাস চেষ্টা করেও আল জাজিরা তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার নিতে পারেনি *** মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে *** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমান বিধ্বস্তের আগে ‘রহস্যজনক নীরবতা’ *** ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সংকেত বুঝতে পারছে না সরকার *** ‘আমি কিন্তু আমলা, আপনি সুবিচার করেননি’ *** প্রধান উপদেষ্টার কাছে অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি *** ভারত-ইউরোপের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি *** ‘গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন হুমকি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, ১৪ই নভেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদের যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এরশাদ হালিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ই নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে রাজধানীর শ্যাওড়াপাড়ার নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

পরে রাতেই ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় যৌন নিপীড়ন ও মারধরের অভিযোগ ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় আজ শুক্রবার ওই শিক্ষককে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

অধ্যাপক এরশাদ হালিমের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের বিষয়ে গতকাল ফেসবুকে লিখতে থাকেন তার বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে গতকাল রাতে টিএসসিতে সাংবাদিক সমিতিতে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

তারা অবিলম্বে এই শিক্ষককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এর মধ্যে একজন শিক্ষার্থী ওই শিক্ষকের নিপীড়নের শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে তার বিস্তারিত বিবরণ ফেসবুকে তুলে ধরেন। পরে রাতেই শিক্ষককে তার বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।

অধ্যাপক এরশাদ হালিমের বিচার দাবিতে সোচ্চার হওয়া শিক্ষার্থীদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের সহসভাপতি আবু নাঈম। তিনি আজ শুক্রবার বিকেলে গণমাধ্যমে বলেছেন, এখন পর্যন্ত ১২ জন শিক্ষার্থী ওই শিক্ষকের যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার কথা তাদের জানিয়েছেন।

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তার নিপীড়নের শিকার হয়েছেন দাবি করে আবু নাঈদ বলেন, ‘নিপীড়নের শিকার হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ঠিক কত তা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। বিষয়টি সামনে আসার পর অন্তত ১২ জন ছাত্র তথ্য–প্রমাণসহ তার এমন কার্যকলাপের বিষয়ে আমাদের জানিয়েছেন। প্রতিদিনই নতুন কেউ না কেউ জানাচ্ছেন।’

শিক্ষকের নিপীড়নের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া ওই শিক্ষার্থী বলেছেন, তিনি পরীক্ষা সংক্রান্ত একটি সমস্যায় পড়েছিলেন। সেটা ঠিক করে দেওয়ার কথা বলে তাকে ওই শিক্ষক তার শ্যাওড়াপাড়ায় বাসায় ডেকে নেন। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে ওই শিক্ষক তাকে যৌন নিপীড়ন করেন এবং বিষয়টি যাতে প্রকাশ না করেন সেজন্য ভয়–ভীতি দেখান। এরপরেও কয়েকবার ওই শিক্ষার্থীকে ভয়–ভীতি দেখিয়ে শ্যাওড়াপাড়ার বাসায় নিয়ে তিনি যৌন নিপীড়ন ও মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ আজ বিকেলে বলেন, অভিযোগ আসার পর ওই শিক্ষককে সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পুলিশ ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে।

আজ বিকেলে অধ্যাপক এরশাদ হালিমকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মেহেদী হাসান। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী শ্যামল কুমার রায় তার জামিন চান। শুনানিতে তিনি বলেন, তার মক্কেল নির্দোষ। মূলত কয়েক মাস পর তার বিভাগীয় প্রধান হওয়ার সুযোগ আসছে। সেজন্য অন্য শিক্ষকেরা তাকে ফাঁসিয়েছেন। তার স্ত্রী ও অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া সন্তান আছে উল্লেখ করে তিনি কেন এসব করবেন, সেকথা বলা হয়।

শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এরশাদ হালিমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গতকাল রাতে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে রসায়ন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অভীক চক্রবর্তী বলেন, শিক্ষার্থীরা এরশাদ হালিমকে শিক্ষক হিসেবে মেনে নিতে পারেন না। এর আগেও বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা এই শিক্ষক সম্পর্কে তাদের সাবধান করেছিলেন বলে জানান তিনি।

অভীক অভিযোগ করে বলেন, প্রথমে এই শিক্ষক তাদের নিজের কক্ষে ডাকতেন, তারপর বাসায় ডাকতেন। তিনি গভীর রাতে কারণ ছাড়াই অনেককে ফোন করে অর্থহীন কথা বলতেন। সম্প্রতি এক শিক্ষার্থীকে এই শিক্ষক বাসায় ডেকে নিয়ে নির্যাতন করে চুপ থাকতে হুমকি দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ওই শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়।

গ্রেপ্তার

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250