ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান উগ্রবাদে বিশ্বাসী মানুষ নন। কিন্তু কৌশলগত কারণে তিনি অনেক কিছুই এখন মেনে নিচ্ছেন। যা একদিন ফ্রাংকেনস্টাইন হয়ে তার সামনে হাজির হবে।
মতিউর রহমান চৌধুরীর অভিযোগ, সাংবাদিকদের সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মতবিনিময় বৈঠকে মতিউর রহমান চৌধুরীর এক মিনিটের বক্তৃতার একটি শব্দ নিয়ে গুরুতর আপত্তি এই সময়ের বহুল আলোচিত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের।
'সাংবাদিক পরিচয়েই মরতে চাই' শিরোনামে প্রকাশিত একটি বিশেষ নিবন্ধে মতিউর রহমান চৌধুরী এসব কথা বলেন। তার লেখাটি গতকাল মঙ্গলবার (১৩ই জানুয়ারি) মানবজমিনের ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে। লেখাটির লিংক ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সাংবাদিক সমাজসহ নানা শ্রেণি-পেশার নেটিজেনদের মধ্যে লেখাটি নিয়ে নানামুখী আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে।
মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় বৈঠকে প্রথম শব্দটাই বলেছিলাম, আমরা লিখতে চাই, বলতে চাই। কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশা নিয়ে হাজির হইনি। সেখানে দেওয়া এক মিনিটের বক্তৃতার একটি শব্দ নিয়ে গুরুতর আপত্তি এই সময়ের বহুল আলোচিত রাজনৈতিক দল জামায়াতের সমর্থকদের। ক্ষমতার নেশায় দলটির সমর্থকেরা ভিন্ন চিন্তাকে আমন্ত্রণ জানাতে চান না। উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলেছিলাম। জামায়াতের নাম উল্লেখও করিনি।
তিনি বলেন, তারপরও সমালোচনার হাত থেকে রেহাই পাইনি। সমালোচনা ভালো। কিন্তু সত্যের সঙ্গে মিথ্যা জুড়ে দিয়ে অনুমান করে কারও চরিত্র হনন করা কতটা যুক্তিগ্রাহ্য? উগ্রবাদ কারো বন্ধু হতে পারে না। আফগানিস্তানকে দেখে আমরা কিছুই কি শিখতে পারলাম না! বলে রাখি, উগ্রবাদ জামায়াতেরও বন্ধু হবে না। আমি জামায়াত নেতাদের চিনি ভালো করে।
তিনি লেখেন, ডা. শফিকুর রহমান উগ্রবাদে বিশ্বাসী মানুষ নন। কিন্তু কৌশলগত কারণে তিনি অনেক কিছুই এখন মেনে নিচ্ছেন। যা একদিন ফ্রাংকেনস্টাইন হয়ে তার সামনে হাজির হবে। চারপাশে যা ঘটছে তা সামনে রেখেই কথা বলেছিলাম। যেহেতু জামায়াত কথা বলছে না সেজন্য একমাত্র বিকল্প বিএনপি বা তারেক রহমান।
তিনি বলেন, কিছু পাবার জন্য নয়। এখানে কালো কালিতে লিখে দিতে চাই। ৫৪ বছর আগে এসেছিলাম সাংবাদিকতা করতে। জীবনের শেষ দিকে এসে বলছি-সাংবাদিক পরিচয়েই মরতে চাই। অন্য পরিচয়ে নয়।
খবরটি শেয়ার করুন