ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি বাহিনী পুরো গাজা দখলের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। গাজা দখল অভিযানের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক না হলেও অবিরাম বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার বাহিনী। আবাসিক এলাকাগুলোতে তিন দিন ধরে ব্যাপক হামলা চলছে। বাসিন্দাদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের জোর করে দক্ষিণ সুদানে স্থানান্তরের বিষয়ে দেশটির সঙ্গে আলোচনা করছে ইসরায়েল। খবর এএফপি ও রয়টার্সের।
ব্রিটেন, ইইউ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপানসহ ২৬টি দেশ এক বিবৃতিতে যুদ্ধ বন্ধ করে অনাহার নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে। দেশগুলো ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারে বিরত রাখার পক্ষে মতপ্রকাশ করেছে। বিপরীতে নেতানিয়াহুর বাহিনী হামলা জোরদার করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান ইয়াল জামির গাজা দখলের জন্য আসন্ন বড় হামলার রূপরেখা অনুমোদন দিয়েছেন।
এএফপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের গাজায় অভিযানের পরিসর আরও বাড়িয়েছে ইসরায়েল। এবার গাজা নগরী দখলে নিতে স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে এই নগরীর ১০ লাখ বাসিন্দার জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে। ইতিমধ্যে গাজা নগরীর পূর্বাঞ্চল থেকে বাসিন্দারা বাড়িঘর ছাড়তে শুরু করেছেন। বিমান হামলার শব্দ শোনা যাচ্ছে, তাল আল-হাওয়ার দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে এগিয়ে আসছে ট্যাংক।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ ত্রাণপ্রার্থীসহ কমপক্ষে ১২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অপুষ্টিতে মৃত্যু হয়েছে আরও আটজনের। এতে ১০৬ শিশুসহ ক্ষুধায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৩৫-এ দাঁড়িয়েছে। হামলায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৬১ হাজার ৭২২ জন নিহত এবং এক লাখ ৫৪ হাজার ৫২৫ জন আহত হয়েছেন।
গাজা শহর দখল ও ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনার পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিশ্চিত করার জন্য হামাসের একটি প্রতিনিধি দল মিসর পৌঁছেছে। হামাসের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী পুরো শহর দখলের জন্য অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তারা গাজার শাসন ব্যবস্থা ত্যাগ করতে রাজি, তবে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে তারা তাদের অস্ত্র ত্যাগ করবেন না।
অন্যদিকে গাজা সীমান্ত পরিদর্শন করেছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্ক ও আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট মেরি রবিনসন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘গাজায় শুধু মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষই নয়, বরং একটি গণহত্যাও চলছে।’
গাজার বাসিন্দা মাজেদ আল-হোসারি বলেন, তারা আকাশ থেকে অবিরাম বোমা হামলার শিকার হচ্ছেন। প্রতিটি হামলার সঙ্গে মাটি কাঁপছে। ২৫ বছর বয়সী আমর সালাহ রয়টার্সকে বলেন, মনে হচ্ছে দখলদার বাহিনী নতুন করে যুদ্ধ জোরদার করেছে। পূর্ব গাজার কিছু রাস্তায় বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
অন্যদিকে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোর করে দক্ষিণ সুদানে স্থানান্তরের বিষয়ে দেশটির সঙ্গে আলোচনা করছে ইসরায়েল। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো সতর্ক করে দিয়েছে, এই পদক্ষেপ জাতিগত নির্মূলের সমতুল্য। তাদের আশঙ্কা, একবার যাদের পাঠানো হবে, তাদের গাজায় হয়তো ফিরতে দেওয়া হবে না।
খবরটি শেয়ার করুন