বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং খাতে বঞ্চনার শিকার মুসলিমরা *** সরকারি কর্মচারীদের পাঁচ বছরের বেশি থাকা ঠিক না: প্রধান উপদেষ্টা *** আড়াই মাস চেষ্টা করেও আল জাজিরা তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার নিতে পারেনি *** মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে *** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমান বিধ্বস্তের আগে ‘রহস্যজনক নীরবতা’ *** ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সংকেত বুঝতে পারছে না সরকার *** ‘আমি কিন্তু আমলা, আপনি সুবিচার করেননি’ *** প্রধান উপদেষ্টার কাছে অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি *** ভারত-ইউরোপের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি *** ‘গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন হুমকি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়’

এলপিজি সংকটে বিপর্যস্ত পরিবহন খাত, নিরসনে ৩ দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০২:৪৮ অপরাহ্ন, ১০ই জানুয়ারী ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

দেশে চলমান এলপিজি অটোগ্যাস সংকটের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পরিবহন খাত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনের চালকরা বিভিন্ন স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস না পাওয়ায় বিঘ্নিত হচ্ছে যাত্রীসেবা। এমন পরিস্থিতিতে এলপিজি সংকট নিরসনে তিন দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। 

আজ শনিবার (১০ই জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি। 

এ সময় অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা বলেন, এলপিজি অটোগ্যাস একটি পরিবেশবান্ধব, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি, যা সিএনজি, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের বিকল্প হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে যানবাহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সরকারের উৎসাহে দেশের ৬৪ জেলায় প্রায় এক হাজার এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপিত হয়েছে এবং এর ওপর ভিত্তি করে প্রায় দেড় লাখ যানবাহন এলপিজিতে রূপান্তর করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তীব্র এলপিজি সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্টেশন মালিকদের পাশাপাশি এলপিজিচালিত যানবাহনের মালিক ও চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশন ঘুরেও গ্যাস না পাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং সাধারণ যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

তিনি আরো জানান, দেশে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহার হয়, যার মধ্যে পরিবহন খাতে ব্যবহৃত হয় মাত্র ১৫ হাজার মেট্রিক টন বা প্রায় ১০ শতাংশ। অথচ এই সামান্য পরিমাণ এলপিজির সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় পুরো এলপিজি অটোগ্যাস শিল্প আজ ধ্বংসের মুখে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়, সেগুলো হলো— এলপিজি সরবরাহকারী কম্পানি, অপারেটর ও এলওএবি’র প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, যে কোনো উপায়ে অটোগ্যাসের চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

বিইআরসি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে এলপিজি আমদানিসংক্রান্ত সব জটিলতা দ্রুত সমাধান করে অপারেটরদের মাধ্যমে অটোগ্যাস খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতে যেন এলপিজি সরবরাহে ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রয়োজনে সরকারি উদ্যোগে বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি আমদানির ব্যবস্থা গ্রহণ করা। 

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবহন ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, ভোক্তা স্বার্থ এবং পরিবেশ রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় এলপিজি সংকট নিরসন না হলে এর প্রভাব পুরো অর্থনীতি ও জনজীবনে আরো গভীর সংকট সৃষ্টি করবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি সাঈদা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিন পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল হোসাইন, যুগ্ম অর্থ সম্পাদক মো. মোকবুল হোসেন, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ন কবির ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমানসহ অন্য নেতারা।

জে.এস/

এলপিজি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250