শনিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ‘আসিফ নজরুল তৃতীয় শ্রেণির লেখক’ *** নরসিংদীতে কিশোরীকে অপহরণ ও হত্যা: প্রধান আসামি গাজীপুরে গ্রেপ্তার *** ফাওজুল কবিরের সরকারি বাসায় সাবেক উপদেষ্টাদের ইফতার ও নৈশভোজ *** আমি কিছু দেখিনি, ভুল কিছু করিনি—বিল ক্লিনটনের সাক্ষ্য *** হতাহত নিয়ে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের পাল্টাপাল্টি দাবি *** ‘কোনো নির্বাচনই শতভাগ নিখুঁত হয় না’ *** জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যার বিষয়টি তদন্ত হবে: মির্জা ফখরুল *** তালেবানের পৃষ্ঠপোষক থেকে কেন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠল পাকিস্তান *** ‘ড. ইউনূসের সময়কালে অপসারণ চেষ্টা’—রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জামায়াত আমিরের *** কবি মোহন রায়হানকে ‘অপমান’ করায় উদীচীর নিন্দা

নষ্ট করতে বলার পরও মোবাইল ফোন রেখে দিয়েছিলেন প্রেমিক, সেই ভুলে ফাঁস স্বামী খুনের রহস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, ৭ই আগস্ট ২০২৫

#

প্রতীকী ছবি

মাদকাসক্ত স্বামীর উপর্যুপরি নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন এক নারী। একপর্যায়ে ৩০ পেরোনো এই নারী নিজের স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ভাড়াটে খুনির মাধ্যমে তাকে হত্যা করান। মরদেহ ফেলা হয় অন্য রাজ্যের এক নর্দমায়। এরপর প্রেমিকের সঙ্গে নতুন জীবনের প্রস্তুতি শুরু করেন। কিন্তু খুন হওয়া স্বামীর মুঠোফোন এবং প্রেমিকের একটি ভুলে সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

খুন হওয়া ব্যক্তির নাম প্রিতম প্রকাশ। একাধিক মামলা থাকায় দিল্লি পুলিশের অপরাধ বিভাগ তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। এক মামলায় তাকে পলাতক অভিযুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। পলাতক প্রিতমকে খুঁজতে গিয়ে লোমহর্ষক এক ষড়যন্ত্রের হদিস পায় পুলিশ। খবর এনডিটিভির।

পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে আসে, স্ত্রী সোনিয়া প্রিতমকে হত্যার জন্য ‘সুপারি’ দিয়েছিলেন, অর্থাৎ টাকা দিয়ে খুনি ভাড়া করেছিলেন। নতুন করে জীবন শুরুর আশায় তিনি প্রিতমকে হত্যা করেছিলেন। গ্রেপ্তারের পর সোনিয়া ও রোহিত পুলিশের কাছে এ কথা বলেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে দুজনেই প্রিতমকে হত্যার কথা স্বীকারও করেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে ৩৪ বছর বয়সী সোনিয়া পুলিশকে বলেন, ১৬ বছর বয়সে পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে তিনি আট বছরের বড় প্রিতমকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। তারা দিল্লির আলিপুর এলাকায় থাকতেন।

পুলিশকে সোনিয়া আরও বলেন, প্রিতম মাদকাসক্ত ছিলেন। একাধিক অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তিনি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা, ডাকাতি ও অপহরণের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিলেন। অনেকবার চেষ্টা করেও সোনিয়া স্বামীকে মাদক ছাড়ানো বা অপরাধের পথ থেকে ফেরাতে পারেননি। বরং মাদক নিয়েই প্রায় সময় বাড়ি ফিরতেন প্রিতম এবং তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন।

২০২৩ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোহিত নামের এক ক্যাবচালকের সঙ্গে সোনিয়ার পরিচয় হয়। রোহিতও অতীতে নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের মধ্যে ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একসময় তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সোনিয়ার নতুন জীবনের পথে স্বামী প্রিতম সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান। তাই নতুন জীবন শুরু করতে প্রিতমকে মেরে ফেলারই সিদ্ধান্ত নেন সোনিয়া।

সোনিয়া পুলিশকে জানান, গত বছরের ২রা জুলাই প্রিতমের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। এরপর তিনি দিল্লির পাশের হরিয়ানা রাজ্যের সোনিপতে বোন দীপার বাসায় চলে যান। রোহিতই তাকে সেখানে পৌঁছে দেন।

হরিয়ানাতে যাওয়ার পথে রোহিতের কাছে প্রিতমকে হত্যার প্রস্তাব দেন সোনিয়া, যাতে তারা একসঙ্গে থাকতে পারেন। রোহিতের বিরুদ্ধে আগে থেকেই চারটি ফৌজদারি মামলা ছিল। এর মধ্যে একটি ছিল খুনের মামলা। পরে তিনি দিল্লি-সোনিপত রুটে ক্যাব (ভাড়ায়চালিত কার) চালানোর কাজ শুরু করেন।

গাড়িতে করে দিল্লি ছেড়ে যেতে যেতে রোহিত সোনিয়াকে বলেন, তিনি নিজে প্রিতমকে খুন করতে পারবেন না। তবে ছয় লাখ রুপি জোগাড় করতে পারলে একজন ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করা সম্ভব। কিন্তু সোনিয়ার কাছে এত টাকা ছিল না। এর ফলে সেদিন বিষয়টি আর এগোয়নি। রোহিত তাকে সোনিপতে বোনের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ফিরে আসেন।

গত বছরের ৫ই জুলাই সোনিয়াকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে সোনিপতে যান প্রিতম। কিন্তু সেখানে তাদের মধ্যে আবারও ঝগড়া হয়। তখন সোনিয়া প্রিতমকে খুন করার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তিনি বোন দীপার স্বামীর ভাই বিজয়ের শরণাপন্ন হন। বিজয় বলেন, এক লাখ রুপি দিলে তিনি প্রিতমকে খুন করতে পারবেন। সোনিয়া জানান, তিনি সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রুপি দিতে পারবেন। শেষ পর্যন্ত এই টাকাতেই তাদের মধ্যে রফা হয়।

সেদিন সন্ধ্যায় প্রিতম আবারও সোনিয়াকে তার সঙ্গে বাড়িতে ফেরার অনুরোধ করেন। কিন্তু সোনিয়া আসতে রাজি হননি। উল্টো প্রিতমকে ওই রাতে বোন দীপার বাসায় থাকতে বলেন। এরপর সোনিয়া বিজয়কে ওই রাতে প্রিতমকে শেষ করে দেওয়ার সংকেত দেন।

রাতে ঘরের নিচতলায় প্রিতম ও বিজয়ের ঘুমানোর ব্যবস্থা করা হয়। সোনিয়া ও অন্যরা চলে যান ছাদে। বিজয় রাতের কোনো এক সময় প্রিতমকে খুন করেন। প্রিতমের মরদেহ সাদা চাদরে মুড়িয়ে অদূরে একটি নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয়।

প্রিতমের মুঠোফোন ঘরে পড়ে ছিল। পেয়ে তা নিজের সঙ্গে রেখে দেন সোনিয়া। নর্দমায় পড়ে থাকা প্রিতমের মরদেহ কয়েক দিন পর মানুষের নজরে আসে। কিন্তু পুলিশ তা সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত করতে পারেনি। এ অবস্থায় ঘটনাটি ওখানেই ধামাচাপা পড়ে যায়।

কিন্তু নিজের অপরাধ ঢাকতে সোনিয়া দিল্লির আলিপুর থানায় প্রিতমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি লেখেন, তার স্বামী প্রিতমকে ৫ই জুলাই থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে প্রিতমের ফোনটি তিনি রোহিতকে দিয়ে সেটি নষ্ট করে ফেলতে বলেন।

প্রিতমের বিরুদ্ধে যেহেতু একাধিক ফৌজদারি মামলা ছিল, তাই পুলিশ নিয়মিতভাবে তাকে খুঁজছিল। পুলিশের গোয়েন্দা শাখার কাছে তথ্য ছিল, প্রিতম কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ। এরপর তারা লক্ষ করে, স্ত্রী সোনিয়া প্রিতমের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন। তারপরও পুলিশের অনুসন্ধানী দল নিখোঁজ প্রিতমের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ কোনো তথ্য পায়নি।

এ পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রিতমের ফোন ট্র্যাক বা ফোনের অবস্থান অনুসরণ করে দেখতে পায়, ফোনটি ব্যবহৃত হচ্ছে। সর্বশেষ তা সোনিপত এলাকায় ব্যবহৃত হয়েছে। সোনিয়ার নির্দেশনা সত্ত্বেও ধ্বংস না করে তখনো প্রিতমের ফোনটি ব্যবহার করে যাচ্ছিলেন রোহিত।

পুলিশ তখন রোহিতের ওপর নজরদারি শুরু করে। এতে করে তার আগের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সামনে চলে আসে। অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথমে রোহিত স্বীকার করেননি। রোহিত বলেন, অচেনা এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি ফোনটি কিনেছেন।

কিন্তু পুলিশ রোহিতের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। তখন একপর্যায়ে সোনিয়ার সঙ্গে নিজের সম্পর্ক, প্রিতমকে খুন করার পরিকল্পনা, সোনিয়ার আত্মীয়কে দেওয়া ‘সুপারি’এবং হত্যার পর প্রিতমের মরদেহ নর্দমায় ফেলা নিয়ে পুলিশকে বিস্তারিত তথ্য দেন রোহিত।

স্বামী খুনের রহস্য

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250