বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং খাতে বঞ্চনার শিকার মুসলিমরা *** সরকারি কর্মচারীদের পাঁচ বছরের বেশি থাকা ঠিক না: প্রধান উপদেষ্টা *** আড়াই মাস চেষ্টা করেও আল জাজিরা তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার নিতে পারেনি *** মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে *** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমান বিধ্বস্তের আগে ‘রহস্যজনক নীরবতা’ *** ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সংকেত বুঝতে পারছে না সরকার *** ‘আমি কিন্তু আমলা, আপনি সুবিচার করেননি’ *** প্রধান উপদেষ্টার কাছে অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি *** ভারত-ইউরোপের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি *** ‘গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন হুমকি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়’

সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের ঘটনা উদ্বেগজনক, ঠেকাতে উদ্যোগ নেই সরকারের: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০১:২১ পূর্বাহ্ন, ৭ই জানুয়ারী ২০২৬

#

ফাইল ছবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা ও সামাজিক বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আলোচকেরা। তাদের মতে, এই ঝুঁকি মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ, সক্ষমতা—এমনকি সদিচ্ছারও ঘাটতি স্পষ্ট।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মঙ্গলবার (৬ই জানুয়ারি) সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য মুক্ত আলোচনা: ডিজিটাল অর্থনীতি ও উদ্যোক্তা প্রসঙ্গ’ শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এআই ইতিমধ্যে নৈরাজ্য ও বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঘটনা উদ্বেগজনক।

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি মন্তব্য করে দেবপ্রিয় বলেন, কিন্তু সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে এ নিয়ে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ এখনো চোখে পড়ছে না।

সিপিডির এই বিশেষ ফেলো বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করে ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র, অভিযোগ দাখিল ও ভোট গণনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সুযোগ ছিল, যা কাজে লাগানো হয়নি। নাগরিকেরা দায়িত্বশীল নিয়ন্ত্রণ চান, তবে গণতন্ত্র ছাড়া নিয়ন্ত্রণ বিপজ্জনক হতে পারে—নেপালের অভিজ্ঞতা সেটাই দেখায়।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, রাজনীতি ও গণতন্ত্র—কোনোটির জন্যই সহায়ক নয় বলে মনে করেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা মেরুকরণ ও বিভাজনের রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতা করছি। এ সংকট মোকাবিলা না করলে নির্বাচন করা গেলেও মুক্তি মিলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।’

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) সাবেক সভাপতি শাহেদুল ইসলাম হেলাল বলেন, ‘দুর্নীতি বা ঘুষ থেকে বের হওয়ার একটি রাস্তা হলো ডিজিটালাইজেশন। ফ্যাক্টরিতে সিসি ক্যামেরা থাকায় অনেক সুবিধা হয়েছে আমাদের, সহজেই সব দেখা যায়।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, ‘আমরা যতই অটোমেশন, ডিজিটালাইজেশন করতে চাই না কেন, মানুষের মানসিকতা না বদলালে তাতে কোনো লাভ হবে না।’

একই কথা বলেন ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান সবুর খান। তার মতে, ‘আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছি না। আমরা অসুস্থ জাতি হয়ে যাচ্ছি।’

ডিসিসিআইএর সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম বলেন, তরুণদের মধ্যে ডিজিটাল দক্ষতা ও স্বাক্ষরতা বাড়াতে হবে। ডিজিটাল অবকাঠামোতে কাজ করতে হবে, গ্রাম ও শহরের মধ্যে ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে হবে।

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের স্কুল অব বিজনেসের ডিন এম এ বাকী খলিলী বলেন, অর্থনীতি চালাতে হলে ডিজিটালাইজেশন করতে হবে। উদ্যোক্তাদেরকে সুযোগ দিতে হবে বা তাঁদেরকে বলতে হবে।

ডিজিটাল অগ্রগতি সব দেশেই হচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার কারণ নেই মন্তব্য করে সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বলেন, ‘আমাদের ৮ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী আছে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী হলো সাড়ে ৬ কোটি। এগুলো ভালো জিনিস; কিন্তু এর মধ্যে সমস্যা আছে।’

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250