ছবি: সংগৃহীত
সারা বিশ্বেই মানুষ শহরমুখী, এতে শহরে বাড়ছে মানুষের ভিড়, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মেগা সিটির সংখ্যা। সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহর ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। খবর আল জাজিরার।
এর আগে সবচেয়ে জনবহুল নগর ছিল জাপানের রাজধানী টোকিও। সেই নগর সরিয়ে জাকার্তা ১ নম্বরে উঠে এসেছে। তালিকায় সবচেয়ে বেশি উল্লম্ফন হয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার। জাতিসংঘ প্রকাশিত আগের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ৯ নম্বরে।
গত ১৮ই নভেম্বর জাতিসংঘ ‘ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্টস ২০২৫’ শিরোনামে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। জাকার্তার পরেই আছে ঢাকা, এই নগরে এখন ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ বসবাস করেন। তবে ঢাকার জনসংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তাতে ২০৫০ সাল নাগাদ জাকার্তাকে সরিয়ে ঢাকাই বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নগরে পরিণত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘ।
ইউনাইটেড নেশনস ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে। স্কাই নিউজের খবরে বলা হয়েছে, প্রতিবেদনটি অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে জাতিসংঘ তাদের ২০১৮ সালের জনসংখ্যাবিষয়ক তথ্য হালনাগাদ করেছে।
এই প্রতিবেদনে শহরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যার নাটকীয় বৃদ্ধি তুলে ধরা হয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে একে মানুষ্য বসতির নতুন প্রবণতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকার পরে আছে জাপানের রাজধানী টোকিও। তবে জাকার্তা ও ঢাকার তুলনায় গত ২৫ বছরে টোকিওতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি অনেকটাই স্থিতিশীল থেকেছে। টোকিওর বর্তমান জনসংখ্যা ৩ কোটি ৩৪ লাখ।
এর আগে ২০০০ সালে জাতিসংঘ প্রকাশিত মূল্যায়নে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নগর ছিল টোকিও। ২০০০ সালের পর টোকিওর তুলনায় জাকার্তার জনসংখ্যা ৫ গুণ হারে এবং ঢাকা জনসংখ্যা ৭ গুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে এক কোটির বেশি জনসংখ্যা রয়েছে, বিশ্বে এমন মেগা সিটির সংখ্যা বেড়ে ৩৩ হয়েছে। ১৯৭৫ সালে বিশ্বে মাত্র ৮টি মেগা সিটি ছিল। অর্থাৎ মেগা সিটি বেড়ে চার গুণ হয়েছে। এই ৩৩ মেগা সিটির মধ্যে ১৯টিই এশিয়া মহাদেশে। আর শীর্ষ ১০ মেগা সিটির মধ্যে ৯টি এশিয়ায়।
জাকার্তা, ঢাকা ও টোকিওর পর ৪ নম্বরে আছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি (বাসিন্দা ৩ কোটি ২ লাখ), চীনের সাংহাই (২ কোটি ৯৬ লাখ), চীনের গুয়াংজু (২ কোটি ৭৬ লাখ), ফিলিপাইনের ম্যানিলা (২ কোটি ৪৭ লাখ), ভারতের কলকাতা (২ কোটি ২৫ লাখ) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল (২ কোটি ২৫ লাখ)।
খবরটি শেয়ার করুন