বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং খাতে বঞ্চনার শিকার মুসলিমরা *** সরকারি কর্মচারীদের পাঁচ বছরের বেশি থাকা ঠিক না: প্রধান উপদেষ্টা *** আড়াই মাস চেষ্টা করেও আল জাজিরা তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার নিতে পারেনি *** মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে *** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমান বিধ্বস্তের আগে ‘রহস্যজনক নীরবতা’ *** ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সংকেত বুঝতে পারছে না সরকার *** ‘আমি কিন্তু আমলা, আপনি সুবিচার করেননি’ *** প্রধান উপদেষ্টার কাছে অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি *** ভারত-ইউরোপের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি *** ‘গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন হুমকি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়’

খালেদা জিয়াকে 'জাতীয় নেত্রী' বলে অভিহিত করলেন মতিউর রহমান চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, ৭ই ডিসেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে 'জাতীয় নেত্রী' হিসেবে অভিহিত করেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। গত বছরের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সময় বিএনপির কেউ কেউ খালেদা জিয়াকে 'জাতীয় নেত্রী' বলে তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করে আসছেন।

দেশের বিশিষ্ট ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মধ্যে মতিউর রহমান চৌধুরীই প্রথম নিজের লেখা এক মন্তব্য প্রতিবেদনে খালেদা জিয়ার নামের আগে তাকে 'জাতীয় নেত্রী' বলে অভিহিত করেন। আজ রোববার (৭ই ডিসেম্বর) মানবজমিনে 'মোদি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন: বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কে নাটকীয় মোড়' শিরোনামে প্রকাশিত মন্তব্য প্রতিবেদনে তিনি খালেদা জিয়াকে এভাবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, 'জাতীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় নরেন্দ্র মোদির টুইট এরই (বাংলাদেশ-ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে এগিয়ে যাওয়া) স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। এজেন্সিনির্ভর কৌশল বাদ দিয়ে মোদি রাজনৈতিকভাবে সম্পর্কোন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেন নীতিনির্ধারকদের বৈঠকে।'

গত ১লা ডিসেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্সে এক পোস্টে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করেন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার যেকোনো প্রয়োজনে ভারত সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই কূটনৈতিক সৌজন্যতা দেখানোর প্রসঙ্গটি মতিউর রহমান চৌধুরীর লেখায় বর্ণিত হয়েছে আশাবাদ হিসেবে।

খালেদা জিয়ার নামের আগে বিএনপির নেতাকর্মীরা আপসহীন নেত্রী, দেশনেত্রী অভিধা ব্যবহার করে থাকেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামের আগে জননেত্রী অভিধা ব্যবহার করেন দলটির নেতাকর্মীরা। দলীয় সাংবাদিকেরা সাধারণত দুই দলের সভা-সমাবেশে দুই নেত্রীকে এসব অভিধায় সম্বোধন করে থাকেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে এক লেখায় উল্লেখ করেন, আমরা যারা নব্বই দশকের তরুণ, দুই নেত্রীর উত্থান ঘটে আমাদের সামনেই। আমরা অনেকেই তাদের মিছিলে থেকেছি, তাদের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিয়েছি, এরশাদবিরোধী আন্দোলনকালে তাদের ত্যাগ, সাহসিকতা ও দৃঢ়তা দেখেছি।

তিনি বলেন, তাই দলমত-নির্বিশেষে কিছুটা হলেও আমাদের ভালোবাসা আর মুগ্ধতা আছে দুই নেত্রীর প্রতি। কারও ক্ষেত্রে কম, কারও ক্ষেত্রে বেশি হতে পারে, কিন্তু তাদের সম্পূর্ণ অশ্রদ্ধা বা অগ্রাহ্য করা সম্ভব নয় আমাদের পক্ষে।

'দুই নেত্রীর সম্পর্ক ও মানবিকতার প্রত্যাশা' শিরোনামে ২০২১ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত কলামে তিনি বলেন, এই বোধ থেকে বিভিন্ন সংকটকালে আমরা দুই নেত্রীকে সমর্থন জানাই। যেমন আমি ২১শে আগস্ট (২০০৪ সাল) আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সমাবেশে বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার পর প্রতিবাদ জানিয়ে কলাম লিখেছি। এক–এগারোর সময় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে বাধা দেওয়ার সময় এর বিপক্ষে লিখেছি, বলেছি। 

তিনি বলেন, আবার বিএনপির নেত্রী প্রায় ১০ বছর ধরে যে নিরন্তর শোচনীয় ঘটনার শিকার হচ্ছেন (বাসা থেকে উচ্ছেদ, বিতর্কিত বিচার, কারাকালীন দুর্ভোগ), এর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছি। একই মনোভাবের ধারাবাহিকতা হিসেবে খালেদা জিয়ার বর্তমান গুরুতর শারীরিক অবস্থায় অন্য অনেকের মতো বিচলিত বোধ করছি।

মতিউর রহমান চৌধুরী

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250