বুধবার, ১৮ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ড. ইউনূসের চেয়ে বড় বাটপার বাংলাদেশের সরকারে কেউ আসেননি: আনিস আলমগীর *** সরকার গঠনের ২৮ দিনে প্রধানমন্ত্রীর ২৮ পদক্ষেপ ‘অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’ *** মুসলিম হও, নয়তো মৃত্যু—নাইজেরিয়ায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে জঙ্গিদের হুমকি *** ইরান যুদ্ধের মধ্যেই কিউবা দখলের হুমকি, ট্রাম্পের মতিগতি কী? *** ধর্ষণ প্রতিকারে বিশেষ পদক্ষেপ নেবে সরকার *** চা বিক্রেতা বৃদ্ধা ও নাতনির কাছে ঈদ উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী *** কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের হস্তক্ষেপ দাবি আওয়ামী লীগের *** কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জন্য দোয়ার আয়োজন, অতঃপর... *** ১০ বছরে বাংলাদেশে শ্রমবাজারে প্রবেশ করা অর্ধেক তরুণই কাজ পায়নি: বিশ্বব্যাংক *** ‘জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি আপস করায় প্রধানমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ করা উচিত’

হামলা চালিয়ে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা নিন্দনীয়

সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ০৪:৩০ অপরাহ্ন, ২০শে আগস্ট ২০২৪

#

গণমাধ্যম হলো একটি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। গণমাধ্যম সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। গণমাধ্যম হলো সমাজের দর্পণ স্বরুপ।

গত সোমবার (১৯শে আগস্ট) শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে বসুন্ধরা এলাকায় অবস্থিত  ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের নিউজ টোয়েন্টিফোর, টি স্পোর্টস, বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালেরকণ্ঠ, ডেইলি সান, বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ও রেডিও ক্যাপিটালে হামলা চালায়। এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিন থেকেই গণমাধ্যমের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সে সময়ও কিছু গণমাধ্যমকে টার্গেট করেও হামলা করেছিল দুর্বৃত্তরা। গাড়ি ও ক্যামেরা ভাঙচুর এবং অনেক সাংবাদিককে শারীরিক নির্যাতনও করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে একজন নারী সাংবাদিকের সাথে পৈশাচিক কাণ্ড করা হয়েছিল। যা দেশজুড়ে ঘৃণার জন্ম দিয়েছিল। শুধু রাজধানী ঢাকাই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদের আন্দোলনকে পুঁজি করে একটি বিশেষ গোষ্ঠী কাজগুলো করেছে। পরবর্তীতে সে ঘটনাতে প্রমাণিত হয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দ্বারা একটি কাজও সংঘটিত হয়নি।

গণমাধ্যম জনগণের কাছে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পৌঁছে দেয়। গণমাধ্যমের যেমন স্বাধীনতা আছে, ঠিক তেমনি তাদের রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাও আছে। অনেক সময় দেখা যায়, কিছু গণমাধ্যম হয়তো বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করে। একটি প্রতিষ্ঠান কিংবা কোনো গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বা রিপোর্টে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তার প্রতিবাদ জানানোর অনেক মাধ্যম আছে। সর্বোপরি তার জন্য রাষ্ট্রের আইন আছে, বিচারের আওতায় আনার সুযোগ আছে। কিন্তু কোনো মতে, পেশিশক্তি ব্যবহার করে হামলা চালানোর সুযোগ নেই।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছেন, গণমাধ্যমের উপর যে হামলা হচ্ছে তাতে শিক্ষার্থীরা জড়িত নন। এ হামলাগুলো কিছু দুষ্কৃতকারী নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য করে আসছে। গণমাধ্যমের ওপর হামলা রুখে দিতে শিক্ষার্থীরা প্রস্তুত। শিক্ষার্থীরা সঠিক কথাই বলেছেন, একটি চক্র সব সময় অন্যের উপর ভর করে স্বার্থসিদ্ধি করতে চায়। তাদেরকেও সজাগ থাকতে হবে, রক্তের মধ্যদিয়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে কেউ যেন বিতর্কিত করতে না পারে।

গণমাধ্যম কারো শত্রু নয়, কারো মিত্র নয়। সঠিক সংবাদ প্রকাশই গণমাধ্যমের একমাত্র কাজ। হামলা চালিয়ে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে প্রত্যাশা, দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।

আই.কে.জে/

গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250