বুধবার, ১৮ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ড. ইউনূসের চেয়ে বড় বাটপার বাংলাদেশের সরকারে কেউ আসেননি: আনিস আলমগীর *** সরকার গঠনের ২৮ দিনে প্রধানমন্ত্রীর ২৮ পদক্ষেপ ‘অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’ *** মুসলিম হও, নয়তো মৃত্যু—নাইজেরিয়ায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে জঙ্গিদের হুমকি *** ইরান যুদ্ধের মধ্যেই কিউবা দখলের হুমকি, ট্রাম্পের মতিগতি কী? *** ধর্ষণ প্রতিকারে বিশেষ পদক্ষেপ নেবে সরকার *** চা বিক্রেতা বৃদ্ধা ও নাতনির কাছে ঈদ উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী *** কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের হস্তক্ষেপ দাবি আওয়ামী লীগের *** কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জন্য দোয়ার আয়োজন, অতঃপর... *** ১০ বছরে বাংলাদেশে শ্রমবাজারে প্রবেশ করা অর্ধেক তরুণই কাজ পায়নি: বিশ্বব্যাংক *** ‘জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি আপস করায় প্রধানমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ করা উচিত’

ভেষজ চিকিৎসার নামে প্রতারণা : ফেসবুকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন

সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ০৩:০৭ অপরাহ্ন, ৯ই ডিসেম্বর ২০২৩

#

ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার নামে প্রতারণার হাট বসিয়েছে একদল প্রতারক। সুস্থতার আশায় সেসব ফাঁদে পা-ও দিচ্ছেন অনেকে। ভেষজ, হার্বাল, আয়ুর্বেদিক, ইউনানি, অর্গানিকসহ নানা নামে ফেসবুকে দেদার বিক্রি হচ্ছে মানহীন ও ক্ষতিকর ওষুধ, ফুড সাপ্লিমেন্ট ও কসমেটিকস-যেগুলো তৈরিতে নেই কোনো অনুমোদন। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, এক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনো নিয়মকানুন। ‘শতভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ও বিফলে মূল্য ফেরত’ ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে রীতিমতো আধিপত্য বিস্তার করেছে এসব ভুয়া পণ্য। চটকদার এসব বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত হয়ে নকল ও ভেজাল পণ্য সেবন করে শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন অনেকে।

বর্তমানে ফেসবুকে এ ধরনের অনুমোদনহীন সহস্রাধিক পেজ আছে। জন্ডিসের ওষুধ থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস, লিভার, হাড়ক্ষয়, দৃষ্টিশক্তি, জ্বর, কাশি, কোষ্ঠকাঠিন্য, যৌন সমস্যা, পাইলস, কোলেস্টেরল, ওজন কমানো, উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ-কী নেই এসব পেজে! বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওষুধ প্রস্তুতকারক ও গবেষকদের চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ে বৈধ সনদ থাকতে হয়। কোনো ওষুধ, ফুড সাপ্লিমেন্ট ও কসমেটিক পণ্য বাজারজাতের আগে মানবদেহে তা কতটুকু মাত্রায় কার্যকর এবং এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে কি না, তা নিয়ে গবেষণা করা হয়। মানবদেহে প্রয়োগের আগে প্রাণীদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালও হয়। চূড়ান্ত ধাপে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনের পর তা বাজারজাত করা হয়।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্র বলছে, অ্যালোপ্যাথিক, ইউনানি, আয়ুর্বেদিক, হোমিও ও হারবাল ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের চাহিদার ৯৮ শতাংশের জোগান দিয়ে বিশ্বের ১৫৭টি দেশে রপ্তানি করছে। বর্তমানে ওষুধের এ বাজার প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার। সুযোগসন্ধানী প্রতারকরা রোগীদের আকৃষ্ট করতে প্রচারপত্র বিলি, ক্যাবল অপারেটরে বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় ফেসবুকে পেজ ও গ্রুপ খুলে বিভিন্ন নামে এসব মানহীন ও নকল ওষুধ বিক্রি করছে।

যদিও আইনে আছে, শুধু হারবাল বা ভেষজই নয়, প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিও ফেসবুকে ক্যাম্পেইন করে ওষুধ বিক্রি করতে পারে না। ফেসবুকে এসব পেজ কারা পরিচালনা করছে, জনস্বার্থে দ্রুত এর তদন্ত হওয়া দরকার। অনলাইনে অপরাধ ঠেকাতে সরকার যে কঠোর সাইবার নিরাপত্তা আইন করেছে, তা মূলত এসব অপরাধের লাগাম টেনে ধরতেই কাজ করার কথা। অনলাইনে এমন প্রতারণা ঠেকাতে স্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এটাই প্রত্যাশা।

আই. কে. জে/ 

প্রতারণা ভেষজ চিকিৎসা : ফেসবুক

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250